বাজেট নিয়ে সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে আরও একবার কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাকে বঞ্চনা করার অভিযোগে সরব হলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতার দাবি, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর ৮৫ মিনিটের ভাষণের বাংলার উল্লেখ ছিল না ৷ তিনি জানান, ডানকুনি থেকে ফ্রেট করিডর তৈরির ঘোষণাও রেলমন্ত্রী থাকার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় করে গিয়েছিলেন ৷ এই বাডেটে বাংলার জন্য নতুন কিছু নেই ৷ শুধু বাংলাকে নয় অভিষেক মনে করেন, দেশের সঙ্গেই কেন্দ্রীয় সরকার বঞ্চনা করছে ৷ নিজের বক্তব্যের সমর্থনে উল্লেখ করেন ১০টি পয়েন্টের ৷ সেখানে দেশের কৃষকদের বর্তমান পরিস্থিতি থেকে শুরু করে কর কাঠামোর মতো বিষয়ও ৷ ভাষণের একেবারে প্রথম দিকে কৌতুক শিল্পী বীর দাসের উল্লেখ করেন অভিষেক ৷২০২১সালের নভেম্বর মাসে কেনেডি সেন্টাারের একটি অনুষ্ঠানে বীর দাস দুটো ভারতের কথা বলেছিলেন ৷ নিজের ভাষণে বারবার এই দুটো ভারতের মধ্য়ে তুলনা টানেন তিনি ৷ তৃণমূল সাংসদ জানান, তিনি এমন এক দেশে থাকেন যেখানে মাতৃভাষা বাংলায় কথা বলেল বাংলাদেশি বলা হচ্ছে ৷ মাছ খেলে বলা হচ্ছে মুঘল ৷ ‘জয় বাংলা’ বললে বা ‘আমার সোনার বাংলা’ গাইলে বললে বাংলাদেশি বলে দেওয়া হচ্ছে ৷ এখন সরকার বলে সবকা সাথ সবকা বিকাশ ৷ কিন্তু এই সরকারের আমলাতন্ত্রের শীতলতায় বাংলার টাকা আটকে থাকে ৷ ভাষণের অন্য একটি অংশে অভিষেক বলেন, “নিজেদের নায্য দাবি নিয়ে কৃষকরা দিল্লি প্রবেশ করতে চাইলে তাঁদের বাধা দেওয়া হয় ৷ অথচ সন্ত্রাসবাদীরা দিল্লিতে এসে হামলা করতে পারে ৷ নিরীহ মানুষের প্রাণ নিতে পারে ৷” বেতন ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আসার আগে আয়কর দিতে হয় বলে ভাষণে উল্লেখ করে জিএসটি প্রসঙ্গে তোপ দাগেন অভিষেক ৷ তাঁকে বলতে শোনা যায়, “ভারত নিজেকে বিশ্বগুরু বলে আর এই ভারতই শেখায় কীভাবে একজন মানুষের থেকে তিনবার ট্যাক্স নিতে হয় ৷” কীভাবে এই কর আদায় হচ্ছে সেটাও ব্যাখ্যা করেন অভিষেক ৷ তাঁর ভাষণে উঠে আসে এসআইআরের প্রসঙ্গ ৷ কটাক্ষের সুরে অভিষেক বলেন, ” ভোটার তালিকা নিয়ে প্রশ্ন থাকলে এই কক্ষের গ্রহণযোগ্যতাই প্রশ্নের মুখে পড়ে ৷” বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেও সাধারণ লোকেদের বেশি দাম ইথানল মেশানো পেট্রল কিনতে হয় বলে এদিন দাবি করেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কমান্ড ৷ সম্প্রতি ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্য় চুক্তি হয়েছে ৷ তাতে ভারতের কৃষকদের ক্ষতি হবে বলে অভিষেক মনে করেন ৷ এ প্রসঙ্গে মার্কিন কৃষি সচিবের বক্তব্যও তুলে ধরেন অভিষেক ৷ আরজি করের ঘটনার পর বাংলায় অপরাজিত বিল পাশ হয়েছিল ৷ ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ জানান, রাজ্যপালের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে বিলটি পাঠানো হয়েছিল ৷ কিন্তু 18-19 মাস ধরে বিলটি পড়ে আছে ৷ অথচ এই মোদি সরকারই বেটি পড়াও বেটি বাঁচাও-র কথা বলে ৷ দেশে ঘৃণা এখন লুকিয়ে রাখার বিষয় নয় বলে জানান অভিষেক ৷ পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি বলেন, এক বছরে 1300টি ঘূণ্য ভাষণ দেওয়া হয়েছে ৷ভাষণের শেষ দিকে বাবাসাহেব আম্বেদকর-মহাত্মা গান্ধি এবং স্বামী বিবেকানন্দর বক্তব্য তুলে ধরেন ৷ তিনি বলেন, বাবাসাহেব বলেছিলেন গণতন্ত্র কোনও প্রতিষ্ঠান নয়, এটি সাংবিধানিক মূল্যবোধ ৷ গান্ধিজী শিখিয়েছিলেন নীতি ছাড়া অর্থনীতি একধরনের সন্ত্রাস ৷ আর স্বামী বিবেকানন্দ বুঝিয়েছেন দুর্বলকে দুরমুশ করে দেশের উন্নতি সম্ভব নয় ৷ কিন্তু অভিষেক মনে করে সরকার এই তিনটি কাজই করে চলেছে ৷ ৩২ মিনিটের দীর্ঘ ভাষণে একেবারে শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে অভিষেক বলেন, প্রধানমন্ত্রী আত্মনির্ভর দেশ গঠনের কথা বলেছিলেন আর তৃণমূল স্বনির্ভর বাংলা গড়ে দেখিয়েছে ৷ বাংলা আত্মসমপর্ণ করে না ৷ আমাদের মেরুগদণ্ড বিক্রি নেই ৷ এর আগে সকালে সংসদ চত্বরে লোকসভার স্পিকারকে সরাতে বিরোধীদের আনা প্রস্তাবে তৃণমূল কেন সই করেনি তার কারণ ব্যাখ্যা করেন অভিষেক ৷


