বিদেশ

শেষ হল বাংলাদেশের নির্বাচন, ভোট বাতিলের দাবি তুললেন হাসিনা 

বিক্ষিপ্ত অশান্তির মধ্য দিয়ে শেষ হল বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কারের গণভোট। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে চারটেয় সরকারিভাবে ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরপরই শুরু হয়েছে গণনা। রাজধানী ঢাকার ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ আসনের ভাগ্য নির্ধারণে ইতিমধ্যেই কাকরাইলের উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুল অ্যান্ড কলেজে পোস্টাল ব্যালট গণনার কাজ শুরু হয়েছে।

ঢাকার নির্বাচনী তৎপরতা

ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মো. আবদুর রহিম জানিয়েছেন, ঢাকা-৪ থেকে ঢাকা-১৮ পর্যন্ত মোট ১৩টি আসনের পোস্টাল ব্যালট গণনা করা হচ্ছে। বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে স্থানাভাব থাকায় উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলে এই প্রক্রিয়ার আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রের সরাসরি ভোটের ফলাফলের সঙ্গে এই পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা যোগ করে চূড়ান্ত প্রাথমিক ফল ঘোষণা করবে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়।

ভোটের সামগ্রিক চিত্র

হাসিনা সরকারের পতনের প্রায় দেড় বছর পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোট নেওয়া হয়েছে। দুপুর ২টো পর্যন্ত ভোটদানের হার ছিল ৪৭.৯১ শতাংশ, যা চূড়ান্ত হিসেবে আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নির্বাচনের দিনটি সম্পূর্ণ রক্তপাতহীন ছিল না। কিশোরগঞ্জ, চট্টগ্রাম, খুলনা ও সরাইলে মোট ৪ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। গোপালগঞ্জ ও কুমিল্লায় ককটেল বিস্ফোরণ এবং খুলনায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনায় সাময়িক উত্তেজনা ছড়ায়।

ভোট শেষ হতে না হতেই ইউনূস প্রশাসনকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৷ লিখিত প্রতিক্রিয়ায় তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগকে ভোটে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে দেশের নাগরিকরা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে অনীহা দেখিয়েছেন ৷ আর তাই নির্বাচন বাতিল করে এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে সরিয়ে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের দাবিও জানিয়েছেন মুজিব-তনয়া ৷

হাসিনা মনে করেন, ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক‘ উপায়ে ক্ষমতা দখল করা মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনকে সুপরিকল্পিত প্রহসনে পরিণত করেছেন । জনগণের ভোটাধিকার থেকে শুরু গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও সংবিধানের চেতনাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আওয়ামী লীগকে বাদ রেখে আয়োজিত নির্বাচন আসলে দেশের সঙ্গে প্রতারণা করা ছাড়া আর কিছুই না ৷

লিখিত বিবৃতিতে হাসিনা জানান, 11 ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যার পর থেকেই ভোটকেন্দ্র দখল হয়ে গিয়েছিল ৷ ভোট কিনতে প্রচুর পরিমাণে টাকাও ছড়ানো হয়েছিল ৷ ভোটারদের ভয় দেখাতে ব্যবহার হয় অস্ত্রেরও ৷ বিবৃতির অন্য একটি অংশে নির্বাচন ঘিরে ‘প্রতরণা’ কোথা থেকে শুরু হল সেটা জানিয়ে হাসিনা লেখেন, ব্যালট পেপারে সিল প্রদান এবং ফলাফল শিটে এজেন্টদের স্বাক্ষর গ্রহণের মধ্য দিয়েই এই প্রহসনের সূচনা হয়। 12 ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে বাংলাদেশের অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রে ভোটারদেপর উপস্থিতি ছিল একেবারেই নগণ্য। রাজধানীর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জায়গায় বহু সময় ভোটারদের দেখা সেভাবে মেলেনি ৷