দেশ

‘পশ্চিমবঙ্গ জয়ের রাস্তা দেখিয়েছে বিহার’, ছাব্বিশে তৃণমূল-উৎখাতে আত্মবিশ্বাসী প্রধানমন্ত্রীর বার্তা

মোদি-নীতীশ ঝড়ে ভেসে গেল মহাগঠনবন্ধন ৷ মগধে এই বিধ্বংসী জয়ের পর ছাব্বিশে বাংলা জয় নিয়ে আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে বিজেপির সদর কার্যালয়ে তাঁর মন্তব্য, “গঙ্গাজি যেমন বিহার হয়ে বাংলায় বইছেন ৷ তেমনই বাংলায় বিজেপির জয়ের রাস্তা তৈরি করে দিয়েছে বিহার ৷ পশ্চিমবঙ্গ থেকেও জঙ্গল রাজ উপড়ে ফেলব ৷” এদিন সকালে ভোটগণনায় এনডিএ-র জয় স্পষ্ট হতেই এই মন্তব্য করেছিলেন বিজেপি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিং ৷ তিনি বলেন, “বিহারের পর এবার বাংলার জয় হবে ৷” আর সন্ধ্যায় তাতেই সিলমোহর দিলেন দলের ক্যাপ্টেন মোদি ৷ প্রধানমন্ত্রী বিহারে এনডিএ জয়ের বক্তৃতা শুরু করেছিলেন ‘ছটি মায়ের’ বন্দনা করে ৷ আর বক্তৃতা শেষ করলেন সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত ‘বন্দেমাতরম’-এর সার্ধ শতবর্ষের কথা দিয়ে ৷ 243টি বিধানসভা আসনের মধ্যে 147টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন ৷ এর মধ্যে 125 টি আসনে জয়ী হয়েছে এনডিএ জোট ৷ এই প্রথমবার বিধানসভা ভোটে দু’টি দলই সমান সংখ্যক 101টি করে আসনে প্রার্থী দিয়েছিল ৷ এদিকে মহাগঠবন্ধন পেয়েছে 17টি আসনে ৷ কংগ্রেস মাত্র 5টি আসনে জয় নিশ্চিত করতে পেরেছে ৷ প্রতিবেশী বিহারে এনডিএ-র এই বিপুল জয়ের পর তার রেশ ছড়িয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও ৷ কলকাতায় মুরলীধর সেন লেনে দলের সদর কার্যালয়ে অসময়ের হোলি উদযাপিত হচ্ছে ৷ শাঁক বাজিয়ে, কাঁসর-ঘণ্টা বাজিয়ে বিহারে বিজেপির জয় উদযাপন করছেন রাজ্যের গেরুয়া কর্মীরা ৷ তাঁদের উজ্জীবিত করতে প্রধানমন্ত্রীও বার্তা দিলেন বিহারের পর আগামী বছর পশ্চিমবঙ্গে গেরুয়া ঝড় তুলতে হবে ৷ মহাগঠবন্ধনের হয়ে প্রচারে এসে আরজেডির তেজস্বীর গাড়িতে পদযাত্রা করেছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি ৷ তাতে মহাগঠবন্ধনের প্রতি মানুষের আস্থা তৈরি হয়েছিল ৷ মাঝে কিছুটা সময় তিনি বিহার প্রচার থেকে দূরে ছিলেন ৷ মহাগঠনবন্ধনের মুখ্যমন্ত্রী মুখ নিয়ে দীর্ঘ টালবাহানার পর মাঠে নামের প্রবীণ কংগ্রেস নেতা তথা রাজস্থানের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলট ৷ তিনি পটনায় এসে লালু প্রসাদ যাদবের সঙ্গে দেখা করেন ৷ মহাগঠবন্ধনের মধ্যে কোনও অশান্তি নেই, তা প্রমাণ করতে শিবিরের সব দলকে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন এবং সেখানেই তেজস্বীকে মুখ্যমন্ত্রী মুখ হিসাবে ঘোষণা করা হয় ৷ এরপর ফের বিহারে প্রচারে আসেন রাহুল ৷ শেষ মুহূর্তে প্রচারে দেখা যায় ওয়েনাড়ের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধিকেও ৷ তুমুল বিজেপি-জেডি(ইউ) বিরোধী প্রচার সত্ত্বেও এবার শোচনীয় হাল কংগ্রেসের ৷ এই সুযোগে দেশের প্রাচীনতম দলটিকে তুলোধনা করতে ছাড়লেন না প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷ সঙ্গে আরজেডিকেও কড়া আক্রমণ শানালেন ৷ জয়ের মঞ্চ থেকে আত্মবিশ্বাসী মোদির মন্তব্য, “আরজেডি’র জঙ্গল রাজ আর ফিরবে না ৷ কাট্টা সরকার আর ফিরবে না, ফিরবে না, ফিরবে না ৷” কংগ্রেসকে তুলোধনা করে মোদি বলেন, “কংগ্রেস দেশের অনেক রাজ্যে বছরের পর বছর ধরে ক্ষমতায় নেই ৷ পশ্চিমবঙ্গে তো পাঁচ দশকেও কংগ্রেসের সরকার ফেরেনি ৷” গুজরাত, মহারাষ্ট্র, পশ্চিমবঙ্গে গত ক’দশক কংগ্রেস ক্ষমতায় নেই, তার হিসেবও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী ৷ ভোট ময়দানে কংগ্রেসের পরাজয়ের তথ্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “2024 সালের লোকসভা নির্বাচনের পরে দেশের যে ছ’টি রাজ্যে বিধানসভা আসনে নির্বাচন হয়েছে, তাতে 100টি আসনও পায়নি কংগ্রেস ৷ আজ আমাদের দলের যতজন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন, গত ছ’টি বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেস তত আসন পায়নি ৷ এমনকী বিগত তিনটি লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের জয় তিন অঙ্কের সংখ্যায় পৌঁছতে পারেনি ৷” এই অবস্থায় দেশের রাজনীতিতে কংগ্রেসকে তিনি ‘পরজীবী’ ও ‘বোঝা’ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷ কড়া ভাষায় তিনি সমালোচনা করে বলেন, “কংগ্রেসের রাজনীতির নেগেটিভ পলিটিক্সকে কেন্দ্র করে তৈরি ৷ কখনও তারা চৌকিদার চোর বলে ৷ সংসদের সময় নষ্ট করে, নির্বাচন কমিশনকে অকথা-কুকথা বলে, ভোট চুরির মিথ্যা অভিযোগ তোলে, দেশের বদলে শত্রু দেশের এজেন্ডাকে তুলে নিয়ে আসে ৷ কংগ্রেসের কোনও পজিটিভ ভিশন নেই ৷ আজ কংগ্রেস ‘মুসলিম লীগী মাওবাদী কংগ্রেস’ হয়ে গিয়েছে, এমএমসি ৷”