কলকাতা

বাজেটে কল্পতরু মমতা! ৪ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করল রাজ্য সরকার, বাড়ল লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-ডিএ

 বৃহস্পতিবার বহু প্রতিক্ষিত সেই জল্পনাকেই বাস্তবায়িত করল রাজ্যের সরকার। আজ, বৃহস্পতিবার বিধানসভায় পেশ হওয়া ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে পেশ করা হয়। এদিন ৪ লক্ষ ৬ হাজার কোটি টাকার অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করল রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রীর লেখা একটি কবিতা পাঠ করে বাজেট বক্তৃতা শেষ করেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।

🔴 মাধ্যমিক পাশ বেকারদের জন্য নতুন ভাতা ঘোষণা রাজ্য সরকারের। এই ভাতা প্রকল্পের নাম দেওযা হয়েছে, ‘বাংলার যুব সাথী’। আগামী ১৫ অগস্ট থেকে এই প্রকল্প চালু হবে। ২১-৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ বেকার যুবকেরা মাসে ১৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হবে। তবে এই ভাতা পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের জন্য।

🔴 শিক্ষাবন্ধুদেরও ভাতা ১০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটে। প্যারা টিচারদের পারিশ্রমিক আরও ১০০০ টাকা বাড়ানো হয়েছে রাজ্য বাজেটে।

🔴 শিক্ষায় বরাদ্দ ৪১ হাজার কোটি

🔴 ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’ প্রকল্পে মাসে ৫০০ টাকা করে বাড়ানো হল উপভোক্তাদের জন্য। সেক্ষেত্রে সাধারণ শ্রেণীভুক্ত প্রাপকরা, যাঁরা এতদিন পেতেন ১০০০ টাকা, তাঁরা এবার পাবেন ১৫০০ টাকা। অন্যদিকে তফসিলি জাতি, উপজাতির শ্রেণীভুক্তরা, যাঁরা এতদিন পেতেন ১২০০ টাকা করে, তাঁরা পাবেন মাসে মাসে ১৭০০ টাকা।ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই কার্যকর হবে এই ঘোষণা। লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের জন্য ১৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। চন্দ্রিমা ভট্টাচাৰ্য অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করে জানান, “২ কোটি ৪২ লক্ষ মহিলা সুবিধা পাবেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে শাসক দলের চূড়ান্ত উল্লাসের মধ্যেই এদিন আসন ছেড়ে উঠে পড়েন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

🔴 সিভিক ভলান্টিয়ার এবং গ্রিন পুলিশদের বেতন মাসে ১০০০ টাকা করে বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করা হল। এর জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে মোট ১৫০ কোটি টাকা।

🔴 রাজ্যের অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং অঙ্গনওয়াড়ি সহায়কদের জন্য ভাতা ১০০০ টাকা করে বাড়ানোর কথা ঘোষণা করা হল অন্তর্বর্তী বাজেটে। অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী এবং সহায়কদের মৃত্যু হলে পরিবারকে ৫ লাখ ক্ষতিপূরণের কথাও বলা হয়েছে এই বাজেটে। এর জন্য বরাদ্দ হয়েছে মোট ২৮০ কোটি টাকা। 

🔴 আশা কর্মীদের জন্য ভাতা ১০০০ টাকা করে বৃদ্ধি করা হল১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটিও পাবেন আশাকর্মীরা। ৭০ হাজার আশা কর্মীকে স্মার্টফোন দেবে রাজ্য সরকার।

🔴 রাজ্যের ১০০ দিনের কাজে ২০০০ কোটি বরাদ্দ।

🔴 ভূমিহীন কৃষিকর্মীদের জন্য বছরে ৪ হাজার টাকা দেওয়া হবে দুটি কিস্তিতে, ২ হাজার টাকা করে। 

🔴 ধান কেনার জন্য নতুন কেন্দ্র তৈরির বরাদ্দ ২০০ কোটি

🔴 আরও ৩৫০টি সুফল বাংলার স্টল হবে।

🔴 বিধানসভা ভোটের আগে অন্তর্বর্তী বাজেট (ভোট অন অ্যাকাউন্টস)-এ রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য সুখবর। ৫ ফেব্রুয়ারি, বৃহস্পতিবার বাজেটে সপ্তম পে কমিশনের ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের সরকারি কর্মীদের ডিএ আরও ৪ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে তা ১৮ শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়াল ২২ শতাংশ। ১ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হবে।

🔴 রাজ্য সরকারের পেনশনভোগীদের জন্যই সুবিধার কথা ঘোষণা করা হয়েছে অন্তর্বর্তী বাজেটে। বর্তমানে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীরা পশ্চিমবঙ্গ ‘হেল্‌থ স্কিম’-এর আওতায় ২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ‘ক্যাশলেস’ স্বাস্থ্য পরিষেবা পান। বাজেটে ঘোষণা করা হয়েছে, এ বার থেকে ২ লক্ষ টাকার বেশি যা খরচ হবে, তার ৭৫ শতাংশ ‘ক্যাশলেস’ পরিষেবার আওতায় আনা হবে। শীঘ্রই এ বিষয়ে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হবে।

🔴 স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়েও বড় ঘোষণা করলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। স্বাস্থ্যসাথীতে ২ কোটি ৪৫ লক্ষ মানুষকে নিয়ে আসা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। রাজ্য বাজেটে স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় এলেন জম্যাটো-সুইগি সহ ডেলিভারি বয়-রা। বাজেটে এদিন ঘোষণা করা হল, ‘গিগ ইকনমি’র সঙ্গে জড়িতদেরও স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় আনা হবে। । স্বাস্থ্যে বরাদ্দ ২১ হাজার ৩৫৫ কোটি

🔴 পথশ্রী প্রকল্পে গ্রামীণ রাস্তার জন্য ১৫০০ কোটি বরাদ্দ।

🔴 ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য বরাদ্দ ৫০০ কোটি

🔴 গ্রামোন্নয়ন ও পঞ্চায়েত খাতে বরাদ্দ ৪৪ হাজার কোটি

🔴 নদী বন্ধন প্রকল্পে বরাদ্দ ২০০ কোটি

বাজেটের পর সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, “অমিত মিত্র রয়েছেন। আমি অমিত দাকে বলব, বাজেটের প্রভাব ব্যাখ্যা করতে।” অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অমিত মিত্রর ভূয়সী প্রশংসা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ভারতের অর্থমন্ত্রী হওয়া উচিত ছিল অমিতদার। এত বঞ্চনা সত্বেও আমরা কাজ করে গিয়েছি। সর্বশিক্ষা মিশনের টাকাও বন্ধ। আমরা কথা রাখি। ভোট এলে বলি, আমরা তোমন নই। কথা গিয়ে কথা রাখা মানুষের ধর্ম। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ফেব্রুয়ারি থেকেই বেড়ে যাবে। আশাকর্মী, প্যারা টিচার অনেকেই পাবেন। আশাকর্মীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি পাওয়া উচিত। আমি এটা মনে করি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘ভোটের জন্য কোনও তথা বলি না। যে প্রতিশ্রুতি দিই, তা পূরণ করি। কথা দিয়ে কথা রাখা মানুষের বড় ধর্ম’। রাজ্যে বেকারত্ব কমেছে ৪৫.৬৫ শতাংশ। ১ কোটি ৭২ লক্ষের বেশি মানুষ  দারিদ্রসীমার বাইরে এসেছে, দাবি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। এদিন অমিত মিত্র বলেন, বাজেটের জন্য রেকর্ড পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। জিএসডিপি ৫ শতাংশ বৃদ্ধির আশা রয়েছে। মূলধনী খাত বেড়েছে ১৮ গুণ। সামাজিক পরিষেবা বাড়ল ১৮ গুণ। প্রায় ১ লক্ষ ২৯ হাজার কোটি টাকা। পরিকাঠামো খাতে বরাদ্দ বেড়েছে ১০ গুণ। রাজস্ব ঘাটতি ৪.৪ শতাংশ। ২.২ শতাংশে কমিয়ে আনার চেষ্টা। সম্পদ বৃদ্ধিতে ৪৫ শতাংশ ব্যয়। অমিত মিত্র এও বলেন, ‘ধার আমরা নিচ্ছি। কিন্তু তা মানুষের উন্নয়নের জন্য, তাঁদের জন্য সম্পদ তৈরি করতে ব্যয় করা হচ্ছে।’