‘বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি হয়ে গেল?’ বৃহস্পতিবার নিউ টাউনে সরকারি প্রকল্পের উদ্বোধন করতে গিয়ে ফের বিজেপিশাসিত রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থা নিয়ে সরব হলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, কেউ বাংলায় কথা বললেই তাঁকে ‘ডিপোর্ট’ করার জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হচ্ছে। বাংলায় কথা বললেই ‘রোহিঙ্গা’ বলে দাগিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে এবার সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এ দিন বলেন, ‘ওরা জানে না, বাংলা ভাষায় কথা বলা লোকের সংখ্যা এশিয়াতে দ্বিতীয়, পৃথিবীতে পঞ্চম।’ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, এ দিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে রোহিঙ্গা কোথা থেকে আসল? ওরা তো মায়ানমারের। ওরা বাংলা কী ভাবে জানবে? যারা এ সব কথা বলছে, তারা কী একবারও বুঝবেন না?’ বিজেপির শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের হেনস্থা ও বাংলাভাষায় কথা বললে অসমে বিদেশি চিহ্নিত করার যে ফতোয়া জারি করেছিলেন সে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তার বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই পথে নেমেছেন মমতা। ২১ জুলাই ঘোষণা হবে আন্দোলন কর্মসূচি। এ দিন নাম না করে শেখ হাসিনাকে ভারতে সাময়িক আশ্রয় দেওয়ার বিষয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেন মমতা। তিনি বলেন, ‘আমাদের অতিথি তো কয়েকজনকে রেখেছে ভারত সরকার। আমি কি না বলেছি? রাজনৈতিক কারণ রয়েছেন। ভারত সরকারের অন্য কারণ রয়েছে। পাশের দেশ বিপদে পড়েছে। আমরা তো কখনও এ সব বলি না! কেন তা হলে আপনারা বলবেন, বাংলায় কথা বললে বাংলাদেশি হয়ে গেল!’ শুভেন্দু অধিকারীর আক্রমণের পরের দিনেই মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাভাষা কথা বলা লোকের সংখ্যা এশিয়ায় দ্বিতীয়। সারা বিশ্বে পঞ্চম। সেই ভাষার অপমান আমরা মানব না। ১৭ লাখ রোহিঙ্গা আছে বলছে। এরা কিছু জানেই না। রোহিঙ্গারা কোথায়? তাদের নাম-ঠিকানা দাও। তারপর অভিযোগ করো।’’ বস্তুত, ৭-৮ বছর আগে মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে ২৮ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে চলে আসে। কক্সবাজারের টেকনাফে তাদের ক্যাম্প রয়েছে। তাদের ভাষা, চেহারা কোনওটাই বাঙালিদের মতো নয়। কিন্তু প্রচার করা হয় রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। ভারতেও ঢুকেছে। রাষ্ট্রসংঘের রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গার সংখ্যা ২ হাজারের মতো। তাদের একটি বড় অংশকে ক্যাম্প করে রাখা হয়েছে জম্মু-কাশ্মীরে। চেহারায় তারা বাঙালিদের মতো নয়। ভাষাও বাংলা নয়। ফলে রোহিঙ্গারা চাইলেই বাংলা বলবে অথবা বাঙালি সাজবে এমন মনে করার কোনও কারণ নেই। এই তথ্যকে হাতিয়ার করে এদিন বিজেপিকে তুলোধোনা করেন মমতা। বিশেষ করে নাম না করে দুষেন বিরোধী দলনেতাকে। এদিন মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকারের নোটিফিকেশন করে বাঙালি খেদার মদত দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “এখন নয়, ১৯৭১ সালের পর যারা উদ্বাস্তু হয়ে বাংলাদেশ থেকে এসেছিল, তারা এখন ভারতের নাগরিক। বলছে ১৭ লক্ষ নাম কেটে দেবে। তুমি কে হে হরিদাস পাল! যারা ভোট দিয়েছে, তারা সবাই ইন্ডিয়ান সিটিজেন। জাত, ধর্ম দেখার দরকার নেই। তাঁরা ভারতীয়। বাংলায় কথা বললেই সে বাংলাদেশি নয়।’’


