এবছর দুর্গাপুজো কমিটিগুলির অনুদান বাড়িয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৷ দুর্গাপুজোর জন্য উদ্যোক্তাদের এ বছর ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হবে ৷ বৃহস্পতিবার কলকাতার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে পুজো কমিটির উদ্যোক্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। এদিন নেতাজি ইন্ডোরের বৈঠক থেকে মজা করেই বললেন, ”এবার ৯০ হাজার থাক। নাহলে ৯৫ হাজার।” এই প্রস্তাবে উদ্যোক্তারা নারাজ হওয়ায় হেসে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ”আচ্ছা, এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা দেওয়া হবে। কলকাতা এবং জেলার সব পুজো এই অনুদান পাবে। সকলে খুব ভালো করে পুজো করুন। তবে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার দিকটিতে বিশেষ নজর রাখতে হবে।”  বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের ক্লাব ও পুজো কমিটিগুলির জন্য বড়সড় সুখবর দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রতি বছরের মতো এবারও পুজো কমিটিগুলির সঙ্গে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ঘোষণা করেন, ২০২৫ সালের দুর্গাপুজোয় রাজ্যের প্রতিটি স্বীকৃত ক্লাব ও পুজো কমিটিকে রাজ্য সরকার আর্থিক সাহায্য হিসেবে দেবে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। গত বছর অনুদানের পরিমাণ ছিল ৮৫ হাজার টাকা ৷ এবার তা এক ধাক্কায় ২৫ হাজার টাকা বাড়ল। শুধু আর্থিক অনুদানই নয়, পুজোর আয়োজন সংক্রান্ত সমস্ত সরকারি ফি-যেমন ফায়ার লাইসেন্স, মিউনিসিপ্যাল ফি প্রভৃতি-এবারও সম্পূর্ণ মুকুব থাকবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।  এছাড়াও বিদ্যুতের বিলে ৮০ শতাংশ ছাড়। তিনি বলেন, “দুর্গাপুজো আমাদের জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে। ইউনেস্কো যে স্বীকৃতি দিয়েছে, তা ধরে রাখা আমাদের সকলের দায়িত্ব। আমরা সব ধর্মের অনুষ্ঠানেই যাই। দুর্গাপুজোর সময় যাতে কোনও পরিকাঠামোগত ঘাটতি না থাকে, সেইজন্য সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ করে।” মুখ্যমন্ত্রী এদিন আরও জানান,

কলকাতা পুলিশ এলাকায় প্রায় ৩ হাজার ও রাজ্য পুলিশের আওতায় প্রায় ৪২ হাজার বারোয়ারি দুর্গাপুজো হয়। এছাড়াও রয়েছে আবাসনের পুজো, ছোট ছোট ক্লাবের পুজো এবং পারিবারিক পুজো। সব মিলিয়ে দুর্গাপুজো এখন শুধুই উৎসব নয়, এক বৃহৎ সামাজিক মিলনমেলা।পুজোর নিরাপত্তা ও জনসাধারণের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে এদিন একাধিক নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “পুলিশ কন্ট্রোল রুম, জেলা কন্ট্রোল রুম, রাজ্য কন্ট্রোল রুম-সব জায়গায় সিসিটিভি, ওয়াচ-টাওয়ার, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকতে হবে। মেয়েদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাবে।” মুখ্যমন্ত্রী জানান, দুর্গা প্রতিমার বিসর্জনের ক্ষেত্রে ২,৩ ও ৪ অক্টোবর ইচ্ছেমতো তারিখ বেছে নিতে পারবেন পুজো কমিটিগুলি। তবে রাজ্যজুড়ে পুজো কার্নিভাল হবে ৫ অক্টোবর। এছাড়া, তিনি ট্রান্সপোর্ট দফতরকে বেশি সংখ্যক সরকারি বাস চালানোর নির্দেশ দেন। লোকাল ট্রেন ও মেট্রো চলাচলও যেন নিরবিচ্ছিন্ন থাকে, সে বিষয়ে রেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার জন্য নির্দেশ দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আপনারা ভিড় টানবেন, সেটা ভালো কথা। কিন্তু ভিড় টানতে গিয়ে যেন কোনও দুর্ঘটনা না-ঘটে ৷ পদপিষ্ট হওয়ার মতো ঘটনা একেবারে বরদাস্ত করা হবে না।” এই ঘোষণার ফলে দুর্গাপুজোর আগে রাজ্যের ক্লাব ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই উৎসাহ ও উদ্দীপনা বেড়েছে। পুজোয় সরকারি অনুদান নিয়ে আগে মামলা হয়েছে। সেকথা উল্লেখ করে এদিন মুখ্যমন্ত্রীর কড়া আক্রমণ, ”আমি যে পুজোয় টাকা দিই, তা নিয়েও ওদের (বিরোধী) আপত্তি। এটা নিয়ে মামলা করেছিল। আরে পুজোয় আমরা সবাই আনন্দ করি। একটু টাকা দিলে যদি ওদের পুজোটা আরেকটু ভালো হয়, তাহলে ক্ষতিটা কী? একদিকে বলবে, আমি নাকি বাংলায় দুর্গাপুজো, কালীপুজো, সরস্বতী পুজো করতে দিই না। আবার আমি পুজোয় অনুদান দিলেও আপত্তি করবে।”এই বাড়তি অনুদানকে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।