দলিত বিধবাকে যৌন নির্যাতনের পর বিবস্ত্র করে ফেলে পলাতক তিন ব্যক্তি ৷ সহজে যাতে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ না করতে পারে তার জন্য কেড়ে নেওয়া হয় মোবাইল ফোনও ৷ বিহারের নালন্দা জেলার এই ঘটনা শিউড়ে ওঠার মতো ৷ ঘটনাটি ঘটে 30 জুন মঙ্গলবার ৷ চণ্ডী থানা এলাকার একটি স্থানে 35 বছর বয়সী এক দলিত বিধবাকে যৌন নির্যাতন করে পালায় তিনজন ৷

আতঙ্কিত ও বিভ্রান্তিকর অবস্থায় থাকলেও অন্ধকার নামার পর মহিলা বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছিলেন । পথচারীরা তাঁর অবস্থা লক্ষ্য করে বিষয়টি বুঝতে পারেন । সম্ভ্রম রক্ষার জন্য অন্য এক মহিলা একটি চুড়িদার এবং এক পুরুষ একটি গামছা দিয়ে তাঁকে সহায়তা করেন । পাশাপাশি, তাঁরা পুলিশকেও খবর দেন । এরপর পুলিশের একটি টহল গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই মহিলাকে চণ্ডী থানায় নিয়ে যায় । তাঁর বিবৃতির ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একটি এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়। পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নেয় এবং বুধবার ভোরের দিকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে । নির্যাতিতা বলেন, “এক পরিচিত মহিলার মাধ্যমে বিকাশ (অভিযুক্তদের একজন)-এর সঙ্গে আমার পরিচয় হয়েছিল । সে আমার মোবাইল রিচার্জ করে দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় আমাকে রামপুর রেলওয়ে হল্টে ডাকে । আমি সেখানে গেলে সে তার মোটর সাইকেলে করে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায় ৷ তার অন্য দুই বন্ধুকে ডেকে আনে । তারা আমাকে গণধর্ষণ করে, কাউকে কিছু বললে ভয়াবহ পরিণতির হুমকি দেয় এবং আমার কাপড় ও মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায় ।” ঘটনা প্রসঙ্গে নালন্দার পুলিশ সুপার ভরত সোনি জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে চণ্ডী থানার ‘ডায়াল 112’ নম্বরে খবর আসে যে লক্ষ্মীবিঘা খান্ধা এলাকার কাছে এক মহিলাকে কয়েকজন ব্যক্তি শারীরিক নির্যাতন করে ৷ সন্ধ্যাবেলায় টহলরত পুলিশ আধিকারিক ঘটনাস্থলে পৌঁছন এবং ওই মহিলা ও যিনি পুলিশে খবর দিয়েছিলেন তাঁর জবানবন্দি রেকর্ড করেন । চণ্ডী থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর 70(1), 303(2) (চুরি) ও 352 (জনসমক্ষে শান্তিভঙ্গ উসকে দেওয়ার উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান) ধারা এবং ‘তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইন’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে । অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করা হয় এবং ঘটনার ছয় ঘণ্টার মধ্যেই তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় । এ বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে ৷”

পুলিশ ধৃতদের শনাক্ত করেছে ৷ তারা সবাই চণ্ডী থানার অন্তর্গত একটি গ্রামের বাসিন্দা । তাদের কাছ থেকে নির্যাতিতার মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে । অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের পূর্ব-ইতিহাস রয়েছে ।