মহাকুম্ভে মালা বিক্রি করতে এসে বদলে গিয়েছিল মোনালিসার জীবন। রাতারারতি নেটপাড়ায় ছড়িয়ে পড়ে তাঁর মুখ। ১৬ বছরের নাবালিকার রূপে মুগ্ধ হয় তরুণ থেকে বৃদ্ধ সকলেই। সোশ্যাল মিডিয়া সেন্সেশন হয়ে ওঠে মধ্যপ্রদেশের এক প্রত্যন্ত এলাকায় বাসিন্দা মোনালিসা। মহাকুম্ভ ফেরায় তাঁর ভাগ্য। হিন্দি ছবিতে কাজ করার প্রস্তাব আসে ‘মহাকুম্ভের ভাইরাল গার্লের’ কাছে। চলচ্চিত্র পরিচালক সনোজ মিশ্র নিজে মোনালিসার বাড়ি গিয়ে তাঁকে ছবির প্রস্তাব দেন। নির্ধারণ হয় ছবির নামও। এই বছর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল ‘দ্য ডায়েরি অফ মণিপুর’ নামে ওই ছবিটির। সেই পরিচালককেই এবার ধর্ষণের মামলায় গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশ । জানা যাচ্ছে, ২০২০ সালে উত্তরপ্রদেশের ঝাঁসিতে থাকাকালীন বছর ২৮-এর এক মহিলার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে পরিচয় হয় পরিচালকের। ২০২১ সালের ১৮ জুন ওই মহিলার সঙ্গে দেখা করেন সনোজ মিশ্র। তাঁকে একটি রিসোর্টে নিয়ে যান। অভিযোগ, সেখানে তরুণীকে মদ্যপান করিয়ে নেশাগ্রস্থ অবস্থার সুযোগ নিয়ে তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছেন পরিচালক। নির্যাতিতার আরও অভিযোগ, সেদিন পরিচালক তাঁর কিছু আপত্তিকর ছবি এবং ভিডিয়ো তুলেছিলেন। সেগুলো ব্যবহার করে অভিযুক্ত সনোজ দিনের পর দিন তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক গড়ার জন্যে হুমকি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়। তরুণী এও অভিযোগ করেন, বিবাহ করার এবং চলচ্চিত্রে সুযোগ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মুম্বইয়ে তাঁর সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে ছিলেন পরিচালক। সেই সময়ে একাধিকবার তিনি ধর্ষিত হন বলে অভিযোগ করেছেন। এও জানান, সনোজের সঙ্গে সম্পর্কে থেকে তিনি তিনবার অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। তিনবারই পরিচালক তাঁকে গর্ভপাত করতে বাধ্য করেছিলেন বলে জানিয়েছেন নির্যাতিতা মহিলা। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তরুণীর সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করেন সনোজ। সেই সঙ্গে এও হুমকি দেন, তরুণী যদি তাঁর বিরুদ্ধে কোনরকম অভিযোগ তোলেন তাহলে তাঁদের ব্যক্তিগত ছবি এবং ভিডিয়ো ফাঁস করে দেবেন। কিন্তু সাহস করে থানার দারস্ত হন নির্যাতিতা। ধর্ষণ, হামলা, গর্ভপাত ঘটানো এবং অপরাধমূলক ভয় দেখানোর অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে পুলিশ। অভিযুক্ত পরিচালককে গ্রেফতারও করেছে দিল্লি পুলিশ। গ্রেফতারির আগে দিল্লি হাই কোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন পরিচালক সনোজ কুমার মিশ্র। কিন্তু সেই আবেদন আদালতে খারিজ করে দিতেই হেফাজতে নেওয়া হয়েছে পরিচালককে।
