দশমীর সন্ধ্যা থেকে শুরু হয়েছে একটানা বৃষ্টি । মুষলধারে বৃষ্টির জেরে বেড়েছে দামোদর নদের জলস্তর। বৃষ্টি শুধু এই রাজ্যেই নয় একই অবস্থা প্রতিবেশী রাজ্য ঝাড়খণ্ডেও। গতকাল থেকেই ডিভিসি মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে 65 হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া শুরু করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তুলেছেন, পুজোর মরশুমে কেন না-জানিয়ে জল ছেড়েছে DVC ? এরইমাঝে শুক্রবার জল ছাড়ায় পরিমাণ 70 হাজার কিউসেকে বাড়িয়ে দিল দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন (DVC) ৷ উল্লেখ্য, আজ সকাল থেকেই দফায় দফায় জল ছাড়া হচ্ছে দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে ৷ মরশুমে এত বেশী হারে জল এবছর ছাড়া হয়নি বলেই সূত্রের খবর। এর ফলে দামোদরের উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলিতে প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে আরও নতুন করে। একটানা ভারী বৃষ্টির জেরে তেনুঘাট, মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে থেকে জল ছাড়া হচ্ছে ৷ ফলে দামোদর নদে জলস্তর হু হু করে বেড়ে গিয়েছে ৷ স্বাভাবিকভাবেই একাদশীর দিন সকাল থেকেই দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকেও জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়ানো হয়েছে ৷ একাদশীর দিন সকাল 8টা নাগাদ মাইথন থেকে 42 হাজার 500 কিউসেক ও পাঞ্চেত থেকে 27 হাজার 500 কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে অর্থাৎ 70 হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়ছে ডিভিসি। দুর্গাপুর ব্যারেজে এদিন সকাল 7টা থেকে 59 হাজার 75 কিউসেক জল ছাড়া হয়। বেলা 12টা পর্যন্ত সেই পরিমাণ দাঁড়ায় 67 হাজার 275 কিউসেক জল ছাড়া হয়েছে ৷ ডিভিসি সূত্রে খবর, মাইথন এবং পাঞ্চেত দু’টি জলাধারেই বিপদসীমার কাছাকাছি জল বইছে। আর সেই কারণেই জল ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ডিভিসি। একইসঙ্গে দুর্গাপুর ব্যারেজে দু’টি সেচ খালের 1000 কিউসেক জল ও আরও একটিতে পাঁচশো কিউসেক জল ছাড়া হবে বলে সেচ দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে। সেচ দফতরের দুর্গাপুর শাখার (দামোদর হেড ওয়ার্কস) এক্সিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সঞ্জয় মজুমদার বলেন, “ঝাড়খণ্ডে একটানা ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। সেখান থেকে জল ছাড়া হচ্ছে। এখানেও গতকাল সন্ধ্যা থেকে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। আসানসোল, দুর্গাপুর, বাঁকুড়া জেলার আশপাশের নদী-নালাগুলি থেকে জল এসে দামোদর নদের জলস্তর বাড়িয়ে দিয়েছে । দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার পরিমাণ বাড়াতেই হয়েছে।” একাদশীতে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টি শুরু। তারই মধ্যে উদ্বেগ বাড়িয়ে জল ছাড়ার পরিমাণ আরও বাড়াল DVC । পুজোর আগে অতি বৃষ্টি ও ডিভিসি-র জলাধার থেকে লাগাতার জল ছাড়ার জেরে প্লাবিত হয়েছিল দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকা। পুজো শেষ হতেই ফের আরও একবার প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দামোদরের নিম্ন অববাহিকার পূর্ব বর্ধমান, বাঁকুড়ার বেশ ক’য়েকটি ব্লক ছাড়াও হুগলি, দুই মেদিনীপুর ও হাওড়ার বেশ কিছু এলাকায় প্লাবনের আশঙ্কা দেখা দিতে পারে।


