কলকাতা

বাংলাকে অপমান করেছে বিজেপি, কটাক্ষ মমতার

জ্যোতির্ময় দত্ত, কলকাতাঃ  আজ সকালেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ দাবি করেছিলেন, বাংলার সব বুথ অতি স্পর্শকাতর। সেই বিষয়ে নির্বাচন কমিশনকে নজর দিতে আবেদন করবে বিজেপি। পাশাপাশি, রবিশংকর প্রসাদ এও বলেছিলেন, পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমের নাকি একটুও স্বাধীনতা নেই। আর বিকেলেই পাল্টা সাংবাদিক সম্মেলন করে তাঁর বক্তব্যের জবাব দিলেন বাংলার অগ্নিকন্যা। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরিস্কার জানিয়ে দেন, বিজেপির পেশিশক্তির আস্ফালন তিনি বা তাঁর দল মানবে না। তিনি এও বলেন, ‘‌এ ‌রাজ্যে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান একসঙ্গে পালিত হয়। আমরা গণতান্ত্রিক পরিকাঠামোয় বিশ্বাসী। আমাদের ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। সবকিছুর একটা সীমা আছে, পেশিশক্তি আমাদের দেখাবেন না। ওরা ভাবছে আমাকে আটকাবে, কিন্তু কিছুতেই আটকাতে পারবে না।’‌ তিনি বলেন, সাতে সাত, বিজেপি হবে কুপোকাত। এরপরই কেন্দ্রকে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘‌আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা রাজ্যের দায়িত্ব। বাংলায় কোথাও কোনও অশান্তি নেই। তাহলে কেন বাংলাকে নিয়ে অতিস্পর্শকাতর বিজেপি?‌ অতিস্পর্শকাতর বুথের তালিকা তৈরি হল কীভাবে?‌ সমস্ত বুথকে অতিস্পর্শকাতর দাবি করার কারণই বা কী?‌’‌ এরপর তুলে আনেন ত্রিপুরার প্রসঙ্গও। বলেন, ‘‌এটা আসলে বাংলাকে অপমান করার চেষ্টা। ত্রিপুরার ক্ষেত্রে এসব কথা মনে ছিল না। সেখানে তো ৯৯ শতাংশ আসনে কোনও প্রতিদ্বন্দীতাই হয়নি। আর এদিকে, ভোটে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল তৃণমূল

কালিঘাটে সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

কর্মীদেরই।’‌ এরসঙ্গেই তিনি যোগ করেন, ‘‌ওদের একটা রাজনৈতিক দল বলেই মনে করি না। আসলে মোদি-অমিত শাহের বিরুদ্ধে লড়াই করছি বলে এভাবে আক্রমণ করা হচ্ছে। দেশ একটা গণতন্ত্র আছে। মোদিবাবু, আপনারা বিশ্রাম করুন। এরা যদি ক্ষমতায় আসে দেশের সংবিধানই পাল্টে দেবে। গোরক্ষার নামে কত মানুষ মরেছে?‌ আসলে বিজেপির নেতা মন্ত্রীরা মানসিক রোগগ্রস্থ হয়ে গিয়েছে। এখন আবার সংবাদমাধ্যমের জন্যও অবজার্ভার নিয়োগ করতে বলছে। এরপর তো নির্বাচন কমিশনকে ভোট দিয়ে আসতে বলবে। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করতে চাইছে। বাংলার সব বুথ কেন অতিস্পর্শকাতর?‌‌ বিজেপিকে প্রশ্নবাণ মমতার শুধু তাঁর দলীয় নেতাদের কাছেই নয়, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও ফোন গিয়েছে মোদির সঙ্গে বন্ধুত্ব করার। এদিন দলীর লোকসভা প্রার্থীদের নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এমনই বার্তাদেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন,তাঁর কাছে বহু মেসেজ আসছে যে ,তিনি যেন মোদির সঙ্গে বন্ধুত্ব করে নেন। তবে মমতা জানান, ‘ওনার মুখ দেখতেও ভালো লাগে না। তবে ওনার প্রধানমন্ত্রিত্বের পদমর্যাদাকে আমি সম্মান করি।’ এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে এভাবেই বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ।