আরজি করে খুন ও ধর্ষণের মামলায় সিবিআইয়ের কাছে কেস ডায়েরি ও তদন্ত রিপোর্ট তলব করলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ । সিবিআইকে জানাতে হবে তারা যে তদন্ত করে চার্জশিট দিয়েছিল, সেখানে বিএনএস ৭০ অর্থাৎ গণধর্ষণের ও ষড়যন্ত্রের তদন্ত হয়েছিল কি না ৷ ২৮ মার্চ সিবিআইকে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট । আইনজীবী সুদীপ্ত মৈত্র আরজি করের নির্যাতিতার পরিবারের তরফে এদিন আর্জি জানান, আদালতের নেতৃত্বে তদন্ত করা হোক । কারণ বৃহত্তর ষড়যন্ত্র হয়েছে বলে জানিয়েছে সিবিআই । পাশাপাশি তাঁর আবেদন, সিবিআইকে এসপি র্যাংকের একজনের নেতৃত্বে টিম গঠন করে তদন্ত করতে নির্দেশ দেওয়া হোক । তবে কলকাতা হাইকোর্টে এই আবেদন করার আদৌ আইনসঙ্গত অধিকার আছে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় । পাশাপাশি আদালত কি আরও তদন্তে অনুমতি দিতে পারে, আইন কি সেই অনুমতি দেয়, সিবিআইয়ের তদন্তে কেন এত সময় লাগছে, এই সব প্রশ্ন তোলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় । একইসঙ্গে তাঁর বক্তব্য, তদন্ত হলে বা আদালত তদন্তের নির্দেশ দিলে রাজ্যের কোনও আপত্তি নেই ৷ সিবিআইয়ের আইনজীবী রাজদীপ মজুমদার এদিন জানান, এই মামলার তদন্তকারী আধিকারিক কলকাতার বাইরে রয়েছেন । তাই আদালত যে রিপোর্ট চাইছে, তা জমা দেওয়ার জন্য সময় দিতে হবে । সেই শুনে বিচারপতি ঘোষ বলেন, স্টেটাস রিপোর্ট দেওয়ার আগে বিএনএস ৭০ ধারায় তদন্ত হয়েছে নাকি হয়নি, সেটা সিবিআইয়ের রিপোর্টে যেন পরিষ্কার হয় ৷ আদালতের প্রশ্ন, তদন্তে যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল, সেখানে কি গণধর্ষণ ও ষড়যন্ত্রের কথা বলা হয়েছিল ? ২৮ মার্চ সিবিআইয়ের কাছে কেস ডায়েরি ও রিপোর্ট তলব করেছেন বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ । ওই দিন বিকেল ৩টে ৩০ মিনিটে ফের এই মামলার শুনানি ।আরজি করের ঘটনায় সাজাপ্রাপ্ত সঞ্জয় রায়ের হয়ে আইনজীবী কৌশিক গুপ্ত এদিন এই মামলায় যুক্ত হওয়ার আবেদন জানিয়েছিলেন । কিন্তু বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সেই আবেদন মঞ্জুর করেননি ।
