অধিনায়ক হিসেবে ষষ্ঠবার অনূর্ধ্ব-19 বিশ্বকাপে ভারতকে খেতাব এনে দিলেন বছর আঠারোর মুম্বই ক্রিকেটার ৷ রবিবার হারারে স্পোর্টস ক্লাবে যুব বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্য়ান্ডকে হেলায় হারাল ‘মেন ইন ব্লু’ ৷ সৌজন্যে চোদ্দ বছরের সূর্যবংশীর ব্য়াটিং ‘বৈভব’ ৷ প্রথম ব্য়াটার হিসেবে যুব বিশ্বকাপ ফাইনালে দেড়শত রান হাঁকিয়ে ইতিহাস গড়লেন তিনি ৷ প্রতিপক্ষকে 412 রানের বিশাল টার্গেট দিয়ে ভারত জিতল 100 রানে ৷ চলতি বিশ্বকাপে এর আগে বৈভবের ব্য়াটিং-ঝড় দেখা গেলেও সেঞ্চুরি আসেনি ৷ ফাইনালের জন্য জমিয়ে রেখেছিলেন সবটা ৷ খেতাবি লড়াইয়ে শুক্রবার তাঁর আগুনে ব্য়াটিং ঝলসে দিল ইংল্য়ান্ডকে ৷ যুব বিশ্বকাপ ফাইনালে দ্রুততম সেঞ্চুরি, যুব বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্যক্তিগত ইনিংসে সর্বাধিক ছক্কা, সর্বোপরি ফাইনালে সর্বাধিক ব্যক্তিগত রান ৷ একাধিক মাইলস্টোন সেট করে ভারতকে খেতাব এনে দিলেন বিহারের ‘বিস্ময় বালক’ ৷ 55 বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করা বৈভব এদিন আউট হন 80 বলে 175 রানের ইনিংস খেলে ৷ যার জন্য কোনও বিশেষণই যথেষ্ট নয় ৷ বৈভবের ইনিংস এদিন সাজানো ছিল 15টি ওভার বাউন্ডারি ও সমসংখ্যক বাউন্ডারিতে ৷ ম্য়াচের পাশাপাশি 439 রান করে বিশ্বকাপের সেরাও ভারতীয় ওপেনার ৷ এছাড়া অধিনায়ক মাত্রের 51 বলে 53 রান, অভিজ্ঞান কুণ্ডুর 31 বলে 40, কণিষ্ক চৌহানের 20 বলে 37 ভারতকে নয় উইকেট হারিয়ে পৌঁছে দেয় 411 রানে ৷ ‘মেন ইন ব্লু’র ষষ্ঠ খেতাব জয় কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় ওখানেই ৷ বাকি কাজটা সারেন বোলাররা ৷ বেন ডাওকিন্সের 66, ক্য়ালেব ফ্য়ালকনারের শতরান সত্ত্বেও লক্ষ্যমাত্রার অনেক আগে অলআউট হয়ে যায় ইংল্য়ান্ড ৷ 63 বলে সেঞ্চুরি হাঁকালেও জলে গেল ফ্যালকনারের ইনিংস ৷ 40 ওভারে 311 রানে গুটিয়ে যায় ‘থ্রি-লায়ন্স’ শিবির ৷ 100 রানে জিতে ষষ্ঠ খেতাব নিশ্চিত করে ভারত ৷ ফাইনালে তিনটি উইকেট নেন আরএস অম্বরীশ ৷ খিলান প্য়াটেল, দীপেশ দেবেন্দ্রনের ঝুলিতে জোড়া উইকেট ৷ দ্বিতীয়জন অবশ্য ছ’ওভারে খরচ করেন 64 রান ৷ এছাড়া একটি করে উইকেট কণিষ্ক চৌহান ও আয়ুষ মাত্রের ৷ 2000 সালে মহম্মদ কাইফের নেতৃত্বে প্রথমবার অনূর্ধ্ব-19 ক্রিকেটে বিশ্বসেরা হয়েছিল ভারত ৷ এরপর যথাক্রমে 2008, 2012, 2018 ও 2022 সালে খেতাব জিতেছিল ভারতীয় দল ৷ শুক্রবার হারারেতে ষষ্ঠবার খেতাব জিতে রেকর্ড বাড়িয়ে নিল তাঁরা ৷ অন্য়দিকে 1998 সালের পর দ্বিতীয় খেতাব জয়ের অপেক্ষা বাড়ল ইংল্যান্ডের ৷


