পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের কারণে বিশ্বের একটা বড় অংশে জ্বালানি সঙ্কটের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অনেক দেশেই তাদের তৈলভান্ডার নিয়ে চিন্তিত। হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় তেলের জাহাজ পৌঁছোতে পারছে না সংশ্লিষ্ট দেশগুলিতে, আর তাতেই বেড়েছে সমস্যা। সেই আবহে এ বার প্রতিবেশী বাংলাদেশের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল ভারত। পাইপলাইন দিয়ে পাঁচ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ইরান ও ইজরায়েল সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বাংলাদেশে পেট্রোল-ডিজেলের আকাল দেখা দিয়েছে। ঢাকা এই চালান পাওয়ার কথা স্বীকার করে ভারতের কাছে আরও অতিরিক্ত তেলের আবেদন জানিয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মহম্মদ রেজানুর রহমান জানান, “ভারতের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী পাইপলাইনের মাধ্যমে বছরে ১ লক্ষ ৮০ হাজার টন ডিজেল আসার কথা। এখনকার ৫,০০০ টন সেই চুক্তিরই অংশ।” তিনি আরও আশাপ্রকাশ করেন যে, আগামী দু’মাসের মধ্যে বাকি বরাদ্দ তেলও দেশে চলে আসবে। ২০১৭ সালে চালু হয় ‘ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রী পাইপলাইন’।এর মাধ্যমে অসমের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে এই তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে ঢাকার বাড়তি তেলের আবদার নিয়ে এখনই কোনও সবুজ সংকেত দেয়নি দিল্লি। সরকারি সূত্রের দাবি, দেশের বাজার পরিস্থিতি ও মজুত খতিয়ে দেখেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদিও দিল্লি আশ্বস্ত করেছে যে, বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা থাকলেও ভারতের নিজস্ব জ্বালানি ভাণ্ডারে কোনও টান পড়েনি। এদিকে জ্বালানি সঙ্কটে কার্যত নুইয়ে পড়েছে ওপার বাংলার জনজীবন। পরিস্থিতি এতটাই সঙ্গীন যে, সোমবার থেকে সমস্ত সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। পেট্রোল পাম্পগুলোতে আমজনতার হুড়োহুড়ি সামলাতে তেল বিক্রির ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। অন্যদিকে, যুদ্ধের ময়দানে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক। আমেরিকা দাবি করেছে, তারা ইরানের ডজনেরও বেশি  জাহাজ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে তেহরান জানিয়েছে, তারা এই অঞ্চলের তেল রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ করে দেবে। যুদ্ধের ১১তম দিনে দু’পক্ষের রণংদেহী মেজাজে মধ্য এশিয়াসহ গোটা বিশ্বের অর্থনীতিই এখন খাদের কিনারে।