দেশ

জম্মু-কাশ্মীরের মেঘভাঙা বৃষ্টির জেরে হড়পা বান, মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬০, দুর্গত এলাকা পরিদর্শনে মুখ্যমন্ত্রী ওমার আবদুল্লাহ

জম্মু-কাশ্মীরের কিশতওয়ারতে মেঘভাঙা বৃষ্টিতে হড়পা বানের জেরে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা ৷ শনিবার মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬০ জন ৷ আশঙ্কাজনক অবস্থায় ৩৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে ৷ কাদামাটির নীচে এখনও অনেকের চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে ৷ তাঁদের উদ্ধারের জন্য একসঙ্গে কাজ করছেন জাতীয় ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা দলের সদস্য এবং সেনা জওয়ানরা ৷ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত গ্রামটি ঘুরে দেখেন জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমার আবদুল্লাহ ৷ উত্তরকাশীর পর জম্মু-কাশ্মীর ৷ মেঘভাঙা বৃষ্টি ও তার জেরে হড়পা বানে বৃহস্পতিবার বিপর্যয় নেমে আসে উপত্যকার কিশতওয়ার জেলার প্রত্যন্ত চাসটি গ্রামে ৷ তলিয়ে যায় বহু বাড়ি ৷ কাদামাটির নীচে চাপা পড়ে যান বহু মানুষ ৷ বৃহস্পতিবার রাতের মধ্যে জানা যায় কমপক্ষে ৪৬ জনের মৃত্যু হয়েছে ৷ শনিবার সকালে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল অন্তত ৬০ জন ৷ স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা জানিয়েছে, মৃতদের মধ্যে সিআইএসএফ-এর 2 জওয়ানও রয়েছেন ৷ ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে এখনও পর্যন্ত 167 জনকে উদ্ধার করা হয়েছে ৷ তাঁদের মধ্যে 38 জনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক ৷ সুতরাং, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রশাসনের ৷ যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন এনডিআরএফ, এসডিএফ এবং সেনার যৌথ দল ৷ উদ্ধারকাজ খতিয়ে দেখতে শুক্রবারের পর শনিবারও এলাকা পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী ওমার আবদুল্লা ৷ শুক্রবারও চাসোটি গ্রাম পরিদর্শনে যান জম্মু-কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ৷ স্থানীয়দের সঙ্গে দেখা করেন এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে কথাও বলেন তিনি ৷ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী জানান, কিশতওয়ারের ঘটনা প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্টমন্ত্রী অমিত শাহ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে তাঁর ৷ তিনি বলেন, “প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানীর ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ৷ কেন্দ্রের তরফে সাহায্যে কোনও কমতি থাকবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি ৷” দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, “এমন ঘটনা কেন ঘটল, আমাদের সকলকে বসে সেই নিয়ে আলোচনা করতে হবে ৷”