এবার টাকার পাহাড় কলকাতার স্বনামধন্য সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ! এদিন কলেজের ইউনিয়ন রুম থেকে উদ্ধার ব্যাগ ভর্তি টাকা । থরে থরে 500, 100 টাকার নোট, যার বেশিরভাগই উইপোকায় নষ্ট করে দিয়েছে । যা নিয়ে নতুন করে শোরগোল ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে ৷ কলেজ সূত্রের খবর, গত 4 মে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ওই ইউনিয়ন রুমে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল । তারপর থেকে ওই ঘরে কেউ ঢোকেনি । জানা যাচ্ছে, বর্ষার আগে ডেঙ্গি মশা নিধনে এদিন কলেজে গিয়েছিলেন পুরসভার সাফাই কর্মীরা ৷ বন্ধ অপরিচ্ছন্ন রুম দেখে তালা খোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন পুরসভার কর্মীরা ৷ চাবি খুঁজে পাওয়া যায়নি ৷ তখন অধ্যাপকদের অনুমতি নিয়ে ওই ইউনিয়ন রুমের তালা ভাঙেন সাফাই কর্মীরা । এরপরই বন্ধ ঘরের ভিতরে থাকা আলমারি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রচুর ব্যনার এবং দু’ব্যাগ ভর্তি টাকা উদ্ধার হয় । এই টাকার উৎস ঘিরেই উঠছে প্রশ্ন । কোথা থেকে এত টাকা এল ? কলেজ সূত্রের খবর, কলেজের আরও কয়েকটি ঘর বহুদিন তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে । স্বভাবতই, সেখান থেকেও এরকম কিছু মেলে কিনা তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে ৷ গোটা ঘটনার নেপথ্যে রাজ্যের প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূলের দুর্নীতির গন্ধ দেখছেন বিজেপির বিধায়ক সজল ঘোষ । তিনি বলেন, “এই বাংলায় আমরা কত কিছু দেখেছি । এখন দেখছি তৃণমূলের ছাত্রদের ইউনিয়নের রুমে লাখ লাখ টাকা । আবার সেই টাকা উই পোকায় খাওয়া । কত টাকা থাকলে পরে উইপোকায় টাকা খায় !” সজলের দাবি, “এই সব টাকা ছেলে মেয়েদের কলেজে ভর্তির টাকা । এদের কোনওদিন পুলিশ ধরেনি । এদের এই কাণ্ডে মাথা থেকে পা পর্যন্ত জড়িত । এই টাকা নিয়ে ভর্তির দুর্নীতির কারণে একটা মেয়ে আত্মহত্যা পর্যন্ত করেছিল । এদের ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা উচিত ।” সজলের আরও দাবি, কলেজের ইউনিয়ন রুমে তল্লাশি চালিয়ে এমন কিছু নথি মিলেছে যা থেকে অনুমান, এখান থেকে চাকরি বিক্রির চক্রও সক্রিয় ছিল । দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন রুমটিকে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপের আখড়া হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলেও সরব হয়েছেন সজল ৷ টাকা উদ্ধারের খবর ছড়াতেই দ্রুত সুরেন্দ্রনাথ কলেজে পৌঁছয় মুচিপাড়া থানার পুলিশ ।

