বাংলাদেশে একের পর এক মনীষীর স্মৃতিধন্য ঐতিহ্যবাহী বাড়ি ভাঙার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । কিছুদিন আগেই সিরাজগঞ্জে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারি বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনার প্রতিবাদে সোশাল মিডিয়ায় সরব হয়েছিলেন তিনি । এবার মুখ্যমন্ত্রীর কণ্ঠে উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পৈতৃক ভিটে তথা সুকুমার রায় ও সত্যজিৎ রায়েদের বাড়ি ভাঙা পড়ার ঘটনা নিয়ে শোনা গেল একইরকম বেদনার সুর ৷ উনিশ শতকের একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক ছিলেন উপেন্দ্রকিশোর । একজন চিত্রশিল্পী ও প্রকাশক ছাড়াও তিনি ছিলেন বিখ্যাত কবি সুকুমার রায়ের পিতা এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের দাদু । মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ‘এক্স’ হ্যান্ডেলে একটি বার্তা প্রকাশ করে জানান, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে তিনি জানতে পেরেছেন যে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ শহরে সাহিত্যিক ও শিশুসাহিত্যের পথিকৃৎ উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরীর পৈতৃক বাড়ি ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়েছে । মুখ্যমন্ত্রী লেখেন, “এই সংবাদ অত্যন্ত দুঃখজনক। রায় পরিবার বাংলার সংস্কৃতির অন্যতম ধারক ও বাহক । উপেন্দ্রকিশোর ছিলেন বাংলার নবজাগরণের এক স্তম্ভ । তাই আমি মনে করি, এই বাড়ি বাংলার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত ।” তিনি আরও লেখেন, “আমি বাংলাদেশ সরকার এবং সে দেশের সমস্ত শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষের কাছে আবেদন জানাচ্ছি, এই ঐতিহ্যশালী বাড়িটি যেন রক্ষা করা হয় । পাশাপাশি ভারত সরকারকেও আমি অনুরোধ করছি, বিষয়টিতে নজর দেওয়া হোক ।” প্রসঙ্গত, সিরাজগঞ্জের কাছারি বাড়ি ভাঙার খবর প্রকাশ্যে আসতেই এই ঘটনার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী । এমনকি এটাও জানা যায়, সেই ঘটনার পরবর্তী সময় নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী সঙ্গে দেখা করতে আসা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলোচনার সময়েও প্রসঙ্গটি আলোচনায় উঠে আসে । যদিও সেই সময় বাংলাদেশের তরফ থেকে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা ইস্যু বলে ব্যাখ্যা করা হয়েছিল । তারপরেও কিন্তু বাংলার মনীষীদের বাড়ির উপর আক্রমণের পরম্পরা বদল হয়নি । মনে করা হচ্ছে, সেখান থেকেই উদ্বেগ আরও বেড়েছে মুখ্যমন্ত্রীর । যেহেতু প্রতিবেশী রাষ্ট্র, সরাসরি তিনি এই নিয়ে কোনও পদক্ষেপ করতে পারেন না । তাই নিয়ম মেনেই আরও একবার এই ঘটনায় কেন্দ্রের সাহায্য চেয়েছেন তিনি । এই প্রেক্ষাপটে উপেন্দ্রকিশোরের বাড়ি ভাঙার প্রসঙ্গে ফের একবার ভারত সরকারের হস্তক্ষেপ দাবি করে তাঁর সোশাল মিডিয়া বার্তায় স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী । মুখ্যমন্ত্রী এই সোশাল মিডিয়া বার্তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, ‘রায় পরিবার’ মানেই বাংলার আত্মার অংশ । কারণ, রায় পরিবারের সঙ্গে বাংলার সাহিত্য ও সংস্কৃতির এক অমোঘ যোগ রয়েছে । আর সেই জায়গা থেকে এই ঘটনা সরাসরি বাংলার সংস্কৃতির উপর আক্রমণ হিসেবেই দেখছেন বলেই মনে করা হচ্ছে ।


