ফের দেবভূমিতে বিপর্যয় ৷ এবার চামোলি জেলার থারালিতে অতিভারী বৃষ্টির ফলে এল হড়পা বান ৷ যার জেরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বহু বাড়ি থেকে শুরু করে দোকান ৷ এখনও পর্যন্ত ঘটনায় দু’জনের খোঁজ মিলছে না বলে খবর প্রশাসন সূত্রে ৷ শুক্রবার রাত থেকে প্রবল বৃষ্টির ফলে চামোলি জেলার থারালির বিভিন্ন অংশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। কোটদ্বীপ, রাদিবাগ, আপার বাজার, কুলসারি, চেপডো, সাগওয়ারা থেকে শুরু করে থারালির অন্য কয়েকটি অংশেরও প্রবল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি প্রশাসনের একাংশের। এমনকী হড়পা বানে থারালি সরকারি অফিস এবং আশেপাশের বাড়িগুলি ভেঙে কার্যত ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। চামোলি জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শুক্রবার রাতের বৃষ্টিতে সাগওয়ারা গ্রামে ২০ বছরের এক তরুণী ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে গিয়েছেন। অন্যদিকে, চোপডো বাজার এলাকার এক বাসিন্দারও খোঁজ মিলছে না । টুনরি এলাকায় বন্যার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে ৷ ধ্বংসাবশেষ পিন্ডার নদীর কাছে পৌঁছে গিয়েছে। বৃষ্টির ফলে থারালির সঙ্গে সংযোগের অন্যতম মাধ্যম কর্ণপ্রয়াগ-গোয়ালদাম জাতীয় সড়ক বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর পাশাপাশি থারালি থেকে সাগওয়ারা যাওয়ার রাস্তাটিও বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে প্রশাসন ৷ বন্ধ ডুংরির দিকে যাওয়ার রাস্তাও ৷ সরকারের নির্দেশে স্থানীয় তিনটি ব্লকের সমস্ত স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। ভারী বর্ষণের ফলে কয়েকটি বাজারেরও প্রবল ক্ষতি হয়েছে ৷ থারালির কোটদ্বীপ এলাকায় দোকান এবং ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ৷ তাঁরা জানিয়েছেন, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে তাঁদের ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে ৷ আগামিদিনে কীভাবে এই বিপুল পরিমাণ ক্ষতি সামাল দিয়ে লাভের মুখ দেখবেন তা বুঝতে পারছেন না তাঁরা ৷ পাশাপাশি স্থানীয়দের বেশকিছু যানবাহনও ধ্বংসস্তূপের নীচে চাপা পড়ে গিয়েছে। পঞ্চায়েত চেয়ারম্যানের বাড়ি-সহ রাডিবাগের একাধিক বাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত। ভারী বৃষ্টির জেরে অনেকেই নিজেদের বাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। উল্লেখ্য, চলতি বর্ষার মরশুমে উত্তরাখণ্ডে ভারী বৃষ্টির জেরে একাধিকবার বিপর্যয় নেমে এসেছে।