ভারত এবং জাপান একসঙ্গে এশিয়াকে প্রগতি ও সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যাবে ৷ দু’দেশের সম্পর্ক এই শতাব্দীতে মহাদেশের উন্নয়নের প্রতীক হিসেবে প্রতিভাত হবে ৷ জাপান সফরের শুরুতে বাণিজ্য সম্মেলনে উপস্থিত হয়ে এমনই দাবি করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ তিনি মনে করেন, জাপানের উৎকর্ষতা এবং ভারতের দক্ষতা একত্রিত হলে উন্নয়নের পথ সুগম হয় ৷ স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে দু’দিনের সফরে জাপানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদি ৷ ভারতীয় পণ্যের উপর ওয়াশিংটন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে ৷ এমতাবস্থায় জাপান হয়ে চিন সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী ৷ কূটনৈতিক মহলের মতে মোদির এবারের বিদেশ সফর সবদিক থেকেই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ৷ বণিক সম্মেলনের সভায় দেশের আর্থিক এবং রাজনৈতিক স্থিরতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারত বিনিয়োগের সেরা গন্তব্য হয়ে উঠেছে ৷ এদেশের সরকারের নীতি বানিজ্য সহায়ক ৷ তাছাড়া ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার কারণ হতে পারে এমন কোনও নীতিও সরকার নেয় না ৷ তাঁর কথায়, “ভারতে বিনিয়োগ

করলে লাভের সম্ভাবনা বিপুল ৷ এখন ভারতের অর্থনীতি দ্রুত গতিতে প্রগতির দিকে এগিয়ে চলেছে ৷ আগামিদিনে ভারত দুনিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হয়ে উঠবে ৷” কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে সেমিকন্ডক্টার, বায়ো টেকনলোজি এবং কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের মতো ক্ষেত্রে ভারত কী কী ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে তাও এদিনের ভাষণে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী ৷ দেশের মহাকাশ চর্চার বিষয়টিও উঠে আসে তাঁর ভাষণে ৷ জাপানের প্রযুক্তি এবং ভারতের দক্ষতা এই শতাব্দীতে বিপ্লব আনতে পারে বলে দাবি করে মোদি জানান, আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে জাপানের বাণিজ্য বৃদ্ধি ভারত ছাড়া সম্ভব নয় ৷ ওই সমস্ত দেশ ধীরে ধীরে উন্নয়নের সরণিতে পা রাখতে শুরু করেছে ৷ তাতে ভারত এবং জাপানের দুটি দেশেরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে ৷ গাড়ি উৎপাদন থেকে পারমাণবিক শক্তি ক্ষেত্রে ভারত এবং জাপানের যৌথ অংশিদারিত্বও সাফল্যের নতুন দিগন্তের সন্ধান দিতে পারেন বলে প্রধানমন্ত্রী জানান ৷ এ প্রসঙ্গে জাপানের উন্নতিতে ভারতের অতীত অবদানের কথাও মনে করিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী ৷


