হাওড়ার পর এবার কাঁচরাপাড়া । তৃণমূলের এক যুব নেতাকে কোমরে দড়ি বেঁধে গোটা এলাকা ঘোরাল পুলিশ । আর সেই দৃশ্য ঘিরে রাস্তায় জমল ভিড়, উঠল ‘চোর চোর’ স্লোগান । বৃহস্পতিবার উত্তর 24 পরগনার কাঁচরাপাড়ায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় । সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সেই ছবি ও ভিডিও ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অভিজিৎ রায় ওরফে বনি কাঁচরাপাড়া পুরসভার 3 নম্বর ওয়ার্ডের যুব তৃণমূল সভাপতি । দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে তোলাবাজি, দাদাগিরি-সহ একাধিক অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ ছিল । এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, গত কয়েক বছরে ওয়ার্ডের নানা সরকারি প্রকল্পে কার্যত ‘শেষ কথা’ হয়ে উঠেছিলেন বনি । কে সরকারি কাজ পাবেন, কোথায় কার নাম উঠবে, সব কিছুতেই তাঁর প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ । স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনও সরকারি পদে না থেকেও পুরসভার অন্দরে এক অদৃশ্য নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় ছিলেন তিনি । তিন নম্বর ওয়ার্ডের বাবু কোয়াটার ও নবীনপল্লি এলাকায় আবাসন বণ্টনেও তাঁর একচ্ছত্র প্রভাব ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে । এমনকি পুরসভার সাফাইকর্মীদের জন্য বরাদ্দ কয়েকশো প্লাস্টিকের বালতি একটি আবাসনে মজুত রেখে পরে বাইরে বিক্রি করার অভিযোগও উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে । দীর্ঘদিন ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব থাকায় বনির বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খুলতে সাহস পাননি বলেই দাবি স্থানীয়দের । তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করে । এলাকায় তাঁর প্রভাব কমতেই একের পর এক অভিযোগ সামনে আসতে থাকে । অবশেষে বীজপুর থানায় তোলাবাজি-সহ একাধিক অপরাধমূলক অভিযোগে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয় তাঁর বিরুদ্ধে । পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগ জমা পড়ার পর থেকেই গা ঢাকা দেন বনি । গত শনিবার পূর্ব মেদিনীপুরের মন্দারমনি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় । পরের দিন ব্যারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে আদালত তাঁকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় । বৃহস্পতিবার সকালে হাফপ্যান্ট ও গেঞ্জি পরিয়ে কোমরে দড়ি বেঁধে বনিকে গোটা এলাকায় ঘোরায় বীজপুর থানার পুলিশ । তাঁকে দেখে রাস্তায় ভিড় জমান বহু মানুষ । অনেকে মোবাইলে সেই দৃশ্য বন্দি করেন । জনতার ভিড় থেকে বারবার ওঠে ‘চোর চোর’ স্লোগান । যদিও পুলিশের ঘেরাটোপে দাঁড়িয়েই নিজের নির্দোষ দাবি করেন বনি । তাঁর কথায়, “দলের নেতারা চুরি করেছেন । তাঁরা পালিয়ে গিয়েছেন । আমি চুরি করিনি, তাই পালাইনি ।”

