এ দিন দিল্লিতে সাংবাদিক সম্মেলন করে আম আদমি পার্টি ছাড়ার ঘোষণা করেন রাঘব। সঙ্গী আরও ৬ আপ সাংসদ সবমিলিয়ে আপের সাত সাংসদ যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে।   রাঘব বলেন, ‘রাজ্যসভায় আপের দুই তৃতীয়াংশ সদস্য নিয়ে আমরা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ আম আদমি পার্টি নিজের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হয়েছে তোপ দেগেছেন তিনি। সোজাসুজি বলেছেন, ‘আমরা ঘাম-রক্ত ঝরিয়ে এই পার্টি গড়ে তুলেছি। জীবনের ১৫টা বছর উৎসর্গ করেছি। কিন্তু সেই দল, নীতি, আদর্শ এবং মূল্যবোধ থেকে বিচ্যুত হয়েছে।’ শুধু আম আদমি পার্টি নয়। দলের সুপ্রিমো কেজরিওয়ালের বিরুদ্ধেও তোপ দেগেছেন রাঘব। কেজরির নাম না করেই তিনি বলেন, ‘এই দল আর দেশের স্বার্থে দেখছে না। বরং ব্যক্তিগত স্বার্থে কাজ করছে।’ কিছুটা শ্লেষের সঙ্গেই রাঘব বলেন, ‘গত কয়েক দিন ধরেই মনে হচ্ছে, আমি ভুল দলে সঠিক মানুষ।’ বিজেপিতে যোগ দেওয়াপ পিছনেও এটাই কারণ বলে জানিয়েছেন রাঘব। তাঁর সঙ্গে সন্দীপ পাঠক এবং অশোক মিত্তল ছাড়াও সাংসদ স্বাতী মালিওয়াল, রাজিন্দর গুপ্তা, বিক্রম সাহনি এবং হরভজন সিংও বিজেপিতে যোগ দিতে পারেন বলে জানা গিয়েছে।  

কেজরিওয়ালের দলের অভিযোগ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে নাকি সই করতে রাজি হননি রাঘব। এখান থেকেই যাবতীয় সংঘাতের সূত্রপাত। রাঘবের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করেন আপের শীর্ষ নেতারা। দিল্লির আম আদমি পার্টির রাজ্য সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ সরাসরি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে ভয়ে দিশাহারা হয়ে গিয়েছেন রাঘব।’ তার পর থেকেই আপ-এর সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে শুরু করে। রাঘবের ডানা ছাঁটতে শুরু করেন কেজরিওয়ালও। রাজ্যসভার ডেপুটি লিডারের পদ থেকে তাঁকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকী রাজ্যসভায় রাঘবের বক্তব্য রাখার সময়ও কমিয়ে দেওয়া হয়। আপ জানায়, তিনি অপ্রাসঙ্গিক সব বিষয় নিয়ে কথা বলছেন। এর পাল্টা ক্ষোভ উগরে দিয়ে একটি ভিডিয়োয় রাঘব বলেন, ‘আমাকে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’ সঙ্গে ‘ধুরন্ধর’-এর সেই বিখ্যাত সংলাপও বলেন, ‘ঘায়েল হু, ইসলিয়ে ঘাতক হু।’