‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ শান্তিনিকেতনে শুরু হল ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা । মঙ্গলবার গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘প্রাণের আরাম’ ছাতিমতলায় ব্রহ্ম উপাসনার মধ্যে দিয়ে শুরু হল এ বছরের পৌষ উৎসব ও মেলা ৷ চলবে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত । শীতের মরশুমে উৎসবের মেজাজ শান্তিনিকেতনজুড়ে । মেলা উপলক্ষে রয়েছে আঁটোসাটো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ৷ এই ৬ দিনে লক্ষাধিক জনসমাগমের অপেক্ষায় শান্তিনিকেতন ৷ বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ বলেন, “শুরু হল পৌষ উৎসব ও মেলা ৷ সকলকে আহ্বান জানাই ৷ খুব সুন্দরভাবে সব আয়োজন করা হয়েছে । জেলা প্রশাসনের খুব সহযোগিতা পেয়েছি ৷ কারও যাতে কোনওরকম অসুবিধা না হয়, সেদিকে আমাদের নজর থাকবে ৷ আশা করি ৬ দিন সকলের আনন্দে কাটবে ।” বৈতালিক ও সানাইয়ের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় পৌষ উৎসব । এর পরদিন অর্থাৎ আজ মঙ্গলবার ছাতিমতলায় রবীন্দ্রসঙ্গীত, ব্রহ্ম উপাসনা, বৈদিক মন্ত্রপাঠের মধ্যে দিয়ে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’ শান্তিনিকেতনে শুরু হল ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা । এদিন গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যবহৃত চেয়ারে মাল্যদান করেন উপাচার্য । প্রাঙ্গণের বিনোদন মঞ্চ থেকে মেলার সূচনা করা হয় ৷ সমগ্র অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন বিশ্বভারতীর উপাচার্য প্রবীর কুমার ঘোষ, অধিকর্তা অমিত হাজরা এবং অধ্যাপক সুমন ভট্টাচার্য । আমন্ত্রিত হিসেবে ছিলেন বীরভূমের জেলাশাসক ধবল জৈন, জেলা পরিষদের সভাধিপতি ফায়জুল হক ওরফে কাজল শেখ । ছিলেন বিশ্বভারতীর অধ্যাপক-অধ্যাপিকা, পড়ুয়া ও আশ্রমিকরা ৷ ২৩ ডিসেম্বর মঙ্গলবার পূর্বপল্লীর মাঠে শুরু হওয়া পৌষমেলা চলবে ২৮ ডিসেম্বর রবিবার পর্যন্ত । ৩ দিন মেলা প্রাঙ্গণের মঞ্চে চলবে নানান সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ৷ প্রায় ১৫০০ বিভিন্ন স্টল বসেছে মেলায় ৷ পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মেলার নিরাপত্তায় 16 জন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, এসডিপিও, ডিএসপি র্যাঙ্কের অফিসারের তত্ত্বাবধানে প্রায় ২৫০০ পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে ৷ এছাড়াও নজরদারির জন্য বোলপুর-শান্তিনিকেতনে স্থায়ী ২০০টি সিসি ক্যামেরা থাকছে । মেলা প্রাঙ্গণ ও প্রবেশ পথে আরও ৩০০ সিসি ক্যামেরায় নজরদারি চালানো হচ্ছে ৷ এছাড়া, ৫টি ড্রোন ক্যামেরা, ১০টি ওয়াচ টাওয়ার থেকেও নজর রাখা হচ্ছে ৷ মেলায় যে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অপরাধ দমন শাখা, বিপর্যয় মোকাবিলা দল, মহিলা পুলিশ, র্যাফ, কুইক রেসপন্স টিম, সাদা পোশাকের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে । মেলায় প্রবেশের জন্য 8টি ড্রপ গেট রয়েছে ।


