দেশ

বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটাতে হবে, রাজ্যকে বড় নির্দেশ সুপ্রিমকোর্টের

ডিএ মামলায় বড় ধাক্কা রাজ্য সরকারের ৷ এখনই রাজ্যকে ২৫ শতাংশ ডিএ দিতে হবে বলে নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট ৷ পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের দায়ের করা মহার্ঘ ভাতা (DA) সংক্রান্ত মামলায় বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করল সুপ্রিম কোর্ট । সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রায়দান পর্ব শুরু হয় বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্রর বেঞ্চে ৷ আদালতের এই রায়কে বড় জয় হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারী থেকে শুরু করে বিরোধী নেতা-নেত্রীরা পাশাপাশি বাকি ৭৫ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা রাজ্য সরকার কীভাবে মেটাবে তা ঠিক করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছে শীর্ষ আদালত । সেই চার সদস্যের কমিটিতে থাকবেন, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রা, বিচারপতি তিলক সিং চৌহান, বিচারপতি গৌতম মাধুরিয়া এবং সিএজি’র (CAG) একজন সদস্য ৷ আর এই কমিটি আগামী ৬ মার্চের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টেকে রিপোর্ট দেবে ৷ কোন কোন বিষয় জানাতে হবে সেটাও স্পষ্ট করে দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত –

১) রাজ্যকে মোট কত টাকা দিতে হবে সেটা জানাবে কমিটি ৷

২) কবে সেই টাকা রাজ্য দেবে সেটাও ঠিক করে দেবেন কমিটির সদস্যরা ৷ সেই নির্দেশ মানতে বাধ্য থাকবে রাজ্য ৷

৩) কতগুলি কিস্তিতে বকেয়া ৭৫ শতাংশ ডিএ দেওয়া যাবে সেটাও ঠিক করবে রাজ্য ৷ এদিন বিচারপতিরা আরও জানিয়েছেন, এই ৭৫ শতাংশ বকেয়ার প্রথম কিস্তি দিয়ে দিতে হবে ৩১ মার্চের মধ্যে ৷ ওই দিনের মধ্যে টাকা দেওয়া সংক্রান্ত তথ্য কমিটিকে জানাবে রাজ্য প্রশাসন ৷ এরপর কমিটির তরফে সে কথা রিপোর্ট দিয়ে জানানো হবে সুপ্রিম কোর্টে ৷ প্রায় ১০ লক্ষেরও বেশি কর্মচারী এই ডিএ পেতে চলেছেন। যার মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত রয়েছেন প্রায় দেড় লক্ষ। বাকি রয়েছেন সরকারি কর্মচারী ও শিক্ষক শিক্ষিকা। চার লক্ষ সরকারি কর্মচারী রয়েছেন, প্রায় পাঁচ লক্ষ শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন। নির্দিষ্ট করে বলতে গেলে ২০০৯ থেকে ২০১৯ পর্যন্ত বকেয়া মোট অঙ্ক ৪১,৮৭১ কোটি। সেই ক্ষেত্রে ৫ মার্চের মধ্যে ২৫ শতাংশ মেটাতে প্রয়োজন ১০,৪৬৮ কোটি। বকেয়া ডিএ দেওয়ার বিষয়ে নতুন কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিল সুপ্রিম কোর্ট। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি হবে। সুপ্রিম কোর্ট জানায়, রোপা রুল নিয়ে অনুযায়ী ডিএ রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অধিকার।

এই রায়ের পর বাজেট-পরবর্তী সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট করলেন, আপাতত রায়টি খুঁটিয়ে না দেখে কোনও চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নন। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা এখনও রায়ের কপি হাতে পাইনি। আগে স্টাডি করতে দিন। যে কমিটি এই রায় দিয়েছে, সেখানে তিনজন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ছিলেন, একজন ছিলেন ক্যাগের প্রতিনিধি। রাজ্যের কোনও প্রতিনিধি সেখানে ছিল না। তাই আমরা আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলব। এর জন্য একটি কমিটিও তৈরি করা হয়েছে। এদিন মমতা আরও বলেন, আমরাও মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে একটি কমিঠি গঠন করেছি। আইনি পরামর্শ নেব এবং সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার জন্য ইতিমধ্যেই ৫ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছি। তাঁদের মতামত অনুযায়ী কাজ করব।’ কেন্দ্রীয় হারে ডিএ বিতর্কে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের পেনশনের প্রসঙ্গ মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘আর কোনও রাজ্যে পেনশন দেওয়া হয় না। পশ্চিমবঙ্গে যা পাওয়া যায়, আর কোথাও পাওয়া যায় না। পেনশন বন্ধ করে দিলে আমার অনেক টাকা বেঁচে যেত। কিন্তু যাঁরা পেনশনের উপর নির্ভরশীল, তা হলে তাঁরা কী করবেন? সরকারি কর্মীদের কথা চিন্তা করে তা সরকার দিয়ে থাকে। ’