তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলে উত্তপ্ত বাসন্তী ৷ বৃহস্পতিবার বিকেলের পর শুক্রবার সকালেও এলাকা দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে জড়াল দুই গোষ্ঠী ৷ তাতেই উত্তেজনা ছড়িয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বাসন্তী থানার অন্তর্গত আমঝাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার ঢুড়ি বাজারে ৷ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন ৷ বৃহস্পতিবার বিকেলে তৃণমূলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে ঘটনার সূত্রপাত ৷ যাতে জখম হন অন্তত ২০ জন । সেই সংঘর্ষ জারি রইল পরের দিন পর্যন্ত ৷ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী । জানা গিয়েছে, দুই গোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের শত্রুতার জেরেই এই সংঘর্ষ । বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢুড়ি বাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বচসা শুরু হয় ৷ যা মুহূর্তের মধ্যেই হাতাহাতি ও পরে ইট-পাথর ছোড়াছুড়িতে রূপ নেয় । অভিযোগ, পুলিশের উপস্থিতিতেই দুই পক্ষ একে অপরের দিকে দেদার ইট-পাটকেল ছোড়ে ৷ যার জেরে পরিস্থিতি সামাল দিতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে পুলিশকে । সূত্রের খবর, এলাকায় আজাদ কয়াল ও মুর্শিদ শেখ নামে তৃণমূলের দুই স্থানীয় প্রভাবশালীর অনুগামীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই বিবাদ চলছে । মূলত এলাকা দখলের জন্যই এই বিবাদ বলে স্থানীয়দের দাবি ৷ অভিযোগ, আজাদ ও তাঁর অনুগামীরা আচমকা ওইদিন মুর্শিদ ও তাঁর সমর্থকদের উপর হামলা চালায় । যদিও আজাদের দাবি, প্রথমে তাদের উপর আক্রমণ করা হয়েছিল ৷ পরে আত্মরক্ষার্থে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয় । সংঘর্ষে আহতদের উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে । বেশ কয়েকজনের আঘাত গুরুতর বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার পর ঢুড়ি বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে । এলাকায় টহলদারি জোরদার করা হয়েছে যাতে নতুন করে অশান্তি না ছড়ায় । বাসন্তী থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে । দোষীদের চিহ্নিত করতে এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে । বিষয়টি নিয়ে ক্যানিং মহকুমা পুলিশ আধিকারিক রামকুমার মণ্ডল বলেন, “পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে । কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে তার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে ।” তবে এলাকায় এখনও চাপা উত্তেজনা রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের । প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে ।

