মার্কিন মুলুকে বড় তেল শোধনাগার গড়তে চলেছে মুকেশ আম্বানির সংস্থা ! এমনটাই দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৷ বুধবার তিনি জানিয়েছেন, ভারতীয় শিল্প সংস্থা রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম তেল শোধনাগার তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই চুক্তি করছে । মার্কিন প্রেসিডেন্ট তাঁর ট্রুথ সোশাল মিডিয়ায় এই ঘোষণা করে জানান, নতুন এই শোধনাগার আমেরিকার বাজারে জ্বালানি সরবরাহ আরও মসৃণ করবে ৷ শক্তি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার হবে ।পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের মধ্যেই এই বিষয়টি সামনে এনেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ৷ ইরানের সঙ্গে আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যুদ্ধে ঝাঁজ ক্রমেই বাড়ছে ৷ মিসাইল, ড্রোন ব্যবহার করে ইরান প্রতিশোধমূলক হামলা অব্যাহত রেখেছে ৷ সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, বাহরিন এবং জেওর-সহ প্রতিবেশী দেশগুলিতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি, দূতাবাস এবং অসামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে ইরান । আর এই সংঘাতের জেরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে ব্যাপক প্রভাব পড়েছে ৷ বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকায় জ্বালানি সমস্যা বাড়ছে ৷ বিশ্বের প্রায় 20 শতাংশ তেল এই হরমুজ প্রণালী থেকেই সরবরাহ হয় ৷ এর মাঝেই ট্রাম্প লিখেছেন, “আমেরিকা বাস্তব শক্তির আধিপত্যে ফিরে আসছে ৷ আজ, আমি ঘোষণা করতে পেরে গর্বিত যে আমেরিকা ফার্স্ট রিফাইনিং টেক্সাসের ব্রাউনসভিলে 50 বছরে প্রথম নতুন মার্কিন তেল শোধনাগার খুলছে ।” ট্রাম্প আরও লিখেছেন, “এটি মার্কিন ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একটি ঐতিহাসিক 300 বিলিয়ন ডলারের চুক্তি ৷ আমেরিকান কর্মীদের জন্যও একটি বড় সুযোগ ৷” তবে তিনি এই পরিকল্পনার কোনও বিশদে ব্যাখ্যা করেননি । এরই পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ধন্যবাদ জানিয়েছেন ভারতকেও ৷ ভারতের সবচেয়ে বড় এনার্জি কোম্পানি রিলায়েন্সকে এই বিনিয়োগের জন্য ধন্যবাদ দিয়েছেন তিনি । উল্লেখ্য, গত 7 ফেব্রুয়ারি, দুই দেশই ঘোষণা করে যে তারা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির প্রথম পর্যায়ের রূপরেখা চূড়ান্ত করে ফেলেছে । ট্রাম্প লিখেছেন, “এই বিনিয়োগের জন্য ভারতে আমাদের অংশীদার রিলায়েন্সকে ধন্যবাদ ।” যদিও রিলায়েন্স কী প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তার উল্লেখ অবশ্য করেননি ট্রাম্প । এই মুহূর্তে রিলায়েন্স ভারতের বৃহত্তম বাণিজ্য সংস্থা ৷ এমনকী রিলায়েন্সের জামনগর তেল শোধনাগার বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম । ট্রাম্পের দাবি, নতুন শোধনাগারের জেরে বিলিয়ন ডলার অর্থনৈতিক লাভবান হবে দেশ ৷ এই অঞ্চলে হাজার হাজার কর্মসংস্থানও হবে বলে জানিয়েছেন তিনি । ট্রাম্পের কথায়, “ব্রাউনসভিলের বন্দরে এই নতুন শোধনাগার মার্কিন বাজারকে জ্বালানি সরবরাহ করবে ৷ আমাদের জাতীয় নিরাপত্তাকে শক্তিশালী করবে ৷ কয়েক হাজার দীর্ঘ মেয়াদী চাকরির পথও প্রশস্ত হবে ৷”