বাবা-মায়ের সঙ্গে বিয়েবাড়িতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার বছর তেরোর এক নাবালিকা ৷ ঘটনায় অভিযোগের তির পাঁচজনের দিকে ৷ তাদের মধ্যে ৩টি নাবালকও আছে ৷ অভিযুক্ত ৫ জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ ৷ ঘটনাটি ঘটেছে ঝাড়খণ্ডের লাতেহার জেলার মহুয়াবন্দ থানা এলাকায় ৷ ঘটনার তদন্ত শুরু করে শনিবার সন্ধ্যায় ঝাড়খণ্ড পুলিশের তরফে জানানো হয়, বিয়েবাড়ি থেকে ওই পাঁচজন এই নাবালিকাকে স্থানীয় একটি জঙ্গলে তুলে নিয়ে যায় ৷ সেখানেই নির্যাতিতাকে গণধর্ষণ করা হয় ৷ তদন্তকারীদের আরও দাবি, জেরায় অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে ধৃতরা ৷ তাদের থেকে ঘটনার বিষয় বিস্তারিত তথ্য জানার কাজ শুরু হয়েছে ৷ এই কাজে আর কেউ তাদের সাহায্য় করেছিল কি না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে ৷ পাশাপাশি বিয়েবাড়িতে উপস্থিত আরও কয়েকজনের সঙ্গেও কথা বলছে পুলিশ ৷ মনোজ কুমার নামে মহুয়াবন্দ থানার এক আধিকারিক বলেন, “নির্যাতিতার মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হয়েছিল ৷ অভিযোগ পেয়ে নির্যাতিতার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে ৷ পাশাপাশি জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা নিজেদের দোষ স্বীকার করে নিয়েছে ৷ প্রাথমিক তথ্য় ও প্রমাণ থেকে পরিষ্কার এটি একটি গণধর্যণের ঘটনা ৷ তবে এখনও কয়েকটি বিষয় নিয়ে সংশয় রয়েছে ৷ ওই সমস্ত বিষয়ে জানতে তদন্ত চালিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ৷” জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে পরিবারের সঙ্গে মহুয়াবন্দ থানা এলাকায় অবস্থিত একটি গ্রামের একটি বিয়েবাড়িতে গিয়েছিল ওই নাবালিকা ৷ পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত পাঁচ জনও একই থানা এলাকার বাসিন্দা ৷ তারাও ওই বিয়েবাড়িতে আমন্ত্রিত হয়ে এসেছিল ৷ শুক্রবার গভীর রাত 3টে থেকে শনিবার ভোর 4টার মধ্যে পাঁচ অভিযুক্ত নাবিলিকাকে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে গণধর্যণ করে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা ৷ তারপর তারা সেখান থেকে পালিয়ে যায় ৷ কিন্তু বিয়েবাড়ির ভিড় এড়িয়ে যেভাবে অভিযুক্তরা নাবালিকাকে জঙ্গলে তুলে নিয়ে গিয়েছে তা তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে ৷ পরে নির্যাতিতা কোনওরকমে সেখান থেকে বাড়ি ফিরে সমস্ত ঘটনার কথা জানায় ৷ এ কথা শোনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে নির্যাতিতার পরিবার ৷ অভিযোগ পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করে পুলিশ ৷ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ পাঁচ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয় ৷ এদিন সকলকে আদালতে পেস করা হয় ৷ নির্যাতিতার মায়ের দায়ের করা এফআইআরের ভিত্তিতে প্রথমে দু’জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তিন নাবালকের সন্ধান পান তদন্তকারীরা ।

