শুক্রবার আবার আসছেন বঙ্গ সফরে। দুর্গাপুরের নেহেরু স্টেডিয়ামে দুপুর আড়াইটে নাগাদ তাঁর সভা শুরু হবে। প্রথমে থাকবে প্রশাসনিক কিছু কর্মসূচি। বেলা ৩টে থেকে দুর্গাপুরে রাজনৈতিক সভা করবেন মোদি। তার আগে সাধারণ মানুষকে সভায় আহ্বান জানিয়ে মোদী লিখেছেন, তৃণমূলের অপশাসন চলছে পশ্চিমবঙ্গে। এখানে একমাত্র ভরসা বিজেপি! তবে কম যাচ্ছে না তৃণমূলও। তারা সুযোগ বুঝে হাতিয়ার করছে ‘বাংলা বিতর্ক”কে। সভার আগেই একপ্রস্থ সাংবাদিক বৈঠক করে শশী পাঁজা প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রশ্ন রাখলেন, “এবারও কি আপনি বাংলায় বলবেন?”   বাংলাভাষী হলেই বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে একাধিক বিজেপি শাসিত রাজ্যে বিভিন্ন রাজ্যে বাঙালিদের আটক করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। এ নিয়ে দলগত ভাবে প্রতিবাদ করছে মমতার দল তৃণমূল। দুর্গাপুরে প্রধানমন্ত্রীর সভার আগে ঝোপ বুঝে কোপ মারতে ছাড়লেন না তৃণমূলের শশী পাঁজা। সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিহার হয়ে বাংলায় ঢুকবেন। দুর্গাপুরে তাঁর সভা রয়েছে। সেখানে সভা শেষ করে দিল্লি ফিরে যাবেন। এখন বিষয়বস্তু হল, বিগত দিনগুলোতে যখন প্রধানমন্ত্রী এসেছিলেন, তখন তিনি বাংলাতে কথা বলার প্রয়াস করতেন। আবার দিদিকে ‘ও ডিডি’, ‘ও ডি ডি’ করতেন। এখন একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে, এবারও কি তিনি বাংলায় কথা বলবেন?” শশী ব্যাঙ্গ করে বলেন, “বাংলা বলাটা তো অপরাধ! এটা আমরা বলছি না, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে যাঁরা আমাদের পরিযায়ী শ্রমিক, যাঁরা বাঙালি, বাংলা ভাষা বলছেন তাঁদের হেনস্থাই প্রমাণ করে দিচ্ছে, অকথ্য গালাগালি করে তাঁদের বিরক্ত করে অপদস্থ করা হচ্ছে, সেটাই তার প্রমাণ। এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি, সেটা অত্যাচারের পর্যায়ে চলে গেছে।” মন্ত্রীর অভিযোগ, “বাংলার সরকারকে না জানিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকদের কাউকে আগরতলা না হলে বাংলাদেশে পুশব্যাক করে দিচ্ছে। এঁরা কিন্তু ভারতের নাগরিক। তাহলে বাংলা ভাষাটা অপরাধ হলে বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যতে এই আচরণ কেন করা হচ্ছে?”মোদীর উদ্দেশে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে শশী পাঁজা জানান, “প্রধানমন্ত্রী, আপনি কি দুর্গাপুরে আপনার ভাষণে বাংলা বলাটা অপরাধ কিনা সেটা একটু বলবেন? বাংলার মানুষ সেটা শুনতে চায়। আপনি তো এখান থেকে আবার দিল্লি ফিরে যাবেন। ফিরে গিয়ে দেখুন না ওই বসন্তকুঞ্জ কলোনিতে, জয়হিন্দ কলোনিতে, যেখানে পরিযায়ী শ্রমিকদের চরম হেনস্থা করা হয়েছে। তাঁদের খোঁজ নিন।”