মালদায় বিচারবিভাগের আধিকারিকদের ঘেরাওয়ের ঘটনায় এবার কঠোর পদক্ষেপ করল নির্বাচন কমিশন৷ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে মালদার কালিয়াচক কাণ্ডের তদন্তভার দেওয়া হল এনআইএ-কে৷ বুধবার রাতে মালদার কালিয়াচক এলাকায় ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া চলাকালীন তিন মহিলা-সহ সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের কয়েক ঘণ্টা ধরে ঘেরাও করে রাখা হয়। জানা গিয়েছে, এই ভিড়ে এমন লোকজনও ছিলেন যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং তারা এই ঘটনার প্রতিবাদ করছিলেন। প্রায় 9 ঘণ্টা ধরে বিচারবিভাগের আধিকারিকদের ঘেরাও করা রাখা হয়৷ গভীর রাতে একটি বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিচারবিভাগের আধিকারিকদের নিরাপদে সরিয়ে নিয়ে যায়। তবে, আধিকারিকদের উদ্ধারের সময়ও তাদের গাড়ির উপর হামলার চেষ্টা করা হয়, রাস্তা অবরোধ করা হয়, যা পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তোলে। এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট একটি অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন একটি বেঞ্চ মন্তব্য করেছে যে, এই ঘটনাটি রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার গুরুতর অবনতিকে প্রতিফলিত করে। আদালত আরও বলেছে যে, বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের এভাবে ঘেরাও করে রাখা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য একটি বিপজ্জনক লক্ষণ। মালদার ঘটনায় কমিশনকে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল যে, সিবিআই অথবা এনআইএ-র মতো স্বাধীন সংস্থাকে দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করাতে হবে। তার পরই এনআইএ-কে দিয়ে তদন্ত করানোর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। শুক্রবার রাজ্যে আসার কথা এনআইএ আধিকারিকদের। বুধবার রাতে মালদার কালিয়াচকের ঘটনার পর কড়া বার্তা দিল নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে যে, আজ দুপুরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার জরুরি ভিত্তিতে যে ভিডিয়ো কনফারেন্সের ডাক দিয়েছিলেন, সেখানে অন্যতম মূল প্রসঙ্গ ছিল মালদার কালিয়াচকের অশান্তি। এই বৈঠকেই আজ নির্বাচন কমিশন নির্দেশ দিয়েছেন যে ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করতে হবে। মালদহের ঘটনায় রাজ্যের সিইও মনোজ আগরওয়াল এবং পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে বৃহস্পতিবারের এই বৈঠকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ক্ষোভের মুখে পড়েন রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত এবং মালদহের পুলিশ সুপার অনুপম সিং।
মালদার কালিয়াচক কাণ্ডে এসআইআরের কাজে যুক্ত বিচারকদের নিরাপত্তা দিতে না-পারায় রাজ্য প্রশাসনকে ভর্ৎসনা করে সুপ্রিম কোর্ট। নিরাপত্তাগত ঝুঁকি থাকলে তা পর্যালোচনা করে বিচারকদের পরিবারের সুরক্ষা সুনিশ্চিত করার বন্দোবস্ত করতে বলা হয় কমিশনকে। এর পরেই বৃহস্পতিবার বিকেলে সিইও, রাজ্য পুলিশ এবং প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার৷ তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কালিয়াচক কাণ্ডের তদন্তভার পেল এনআইএ৷

