অবশেষে গ্রেফতার ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলাম
মালদার কালিয়াচকে অবরোধ-বিক্ষোভ এবং বিচারকদের আটকে রাখার ঘটনায় অবশেষে গ্রেফতার ‘মূলচক্রী’ মোফাক্কেরুল ইসলাম। বুধবার রাতে এসআইআরের কাজে যাওয়া জুডিশিয়াল অফিসারদের রাতভর আটকে রাখে উত্তেজিত জনতা। ভোটের মুখে এহেন অশান্তি বড় ধাক্কা নির্বাচন কমিশনের কাছে। কারণ, এই মুহূর্তে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার ভার নির্বাচন কমিশনের। তাই সুপ্রিমকোর্ট নির্বাচন কমিশনকেই কাঠগড়ায় তোলে। তবে মালদার এই অশান্তির নেপথ্যে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হায়দরাবাদের ‘হাঁদা’ দল মিম এবং মুর্শিদাবাদের ‘ভোঁদা’ দল হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টিকে দায়ী করেছিলেন। তাঁর সেই অভিযোগ যে নিতান্ত মিথ্যে নয়, তার প্রমাণ মিলল শুক্রবার সকালে। এদিন কালিয়াচকে অশান্তির ঘটনায় অভিযুক্ত মিম নেতা মোফাক্কেরুল ইসলাম পালানোর সময় বিমানবন্দর থেকে গ্রেপ্তার হন। এর নেপথ্যে অবশ্য সিআইডি-কে কৃতিত্ব দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনআইএ-কে খোঁচা দিয়ে বললেন, ”আসল কালপ্রিটকে গ্রেপ্তার করেছে আমাদের সিআইডি। এনআইএ-র আগে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা এই কাজ করে ফেলল। এখন তো আমাদের হাতে কিছু নেই। তবু আমাদের অফিসারার দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন।” জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে বাগডোগরা বিমানবন্দর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল মোফাক্কেরুল। সেই সময় সিআইডি তাকে গ্রেফতার করে। এই মোফাক্কেরুলের উস্কানিমূলক ভাষণের ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তাকে একটি গাড়ির ওপর উঠে উত্তেজিত জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দিতে দেখা গিয়েছে সেই ভিডিয়োতে। তাকে বলতে শোনা গিয়েছিল – ‘এই ডিএম, এই এসপি, আইবি, সিআইডি কে আছিস রে ভাই…’ । রিপোর্ট অনুযায়ী, ১ এপ্রিল বিকেল ৪টে থেকে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস ঘেরাও করে বহু মানুষ। সেই সময় বিডিও অফিসে ছিলেন ৭ জন বিচারক। গভীর রাত পর্যন্ত এই সব বিচারকদের বিডিও অফিসেই আটকে রাখে বিক্ষোভকারীরা। সেই ঘটনার নেপথ্যে অন্যতম ‘মাথা’ এই মোফাক্কেরুল ছিল বলে অভিযোগ। প্রায় ১০ ঘণ্টা ধরে কালিয়াচক ২ ব্লক অফিসে ঘেরাও ছিলেন ৭ বিচারক। প্রায় মধ্যরাতে সেই বিচারকদের উদ্ধার করে নিয়ে যায় পুলিশ। এদিকে এই ঘটনার পরও বিচারকদের ওপর হামলার চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। কালিয়াচক ২ ব্লক অফিস থেকে যখন বিচারকদের পুলিশ উদ্ধার করে নিয়ে যায়, সেই কনভয়ে হামলা চালায় বিক্ষোভকারীরা। পুলিশ কনভয়ের গাড়ির কাচ ভেঙেছে সেই হামলায়। সেই ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার মূলচক্রী হিসাবে মোফাক্কেরুলের নাম উঠে আসে। এই আবহে এআইএমআইএম নেতার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। তার খোঁজে পুলিশ তল্লাশি অভিযানও চালিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত আজ বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে ধরে পড়েছে সে। মোফাক্কেরুল এক সময়ে রায়গঞ্জ জেলা আদালতের আইনজীবী ছিল। পরে কলকাতা হাইকোর্টেও প্র্যাক্টিস শুরু করে। বর্তমানে কলকাতায় থাকলেও তার আদি বাড়ি ইটাহারের পোরসা হাটখোলায়। ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটে আসাদউদ্দিন ওয়াইসির দলের প্রার্থী হয়েছিল মোফাক্কেরুল। ইটাহারের এমআইএম প্রার্থী হিসাবে মাত্র ৮৩১টি ভোট পেয়েছিল সে, যা কি না নোটার থেকেও অনেক কম ছিল।

