আবার অগ্নিগর্ভ মণিপুর। জাতিগত অশান্তিতে লাগাতার বিধ্বস্ত মণিপুরে নতুন করে ছড়িয়ে পড়ছে সহিংসতা ও বিক্ষোভ। এই আবহে এই মুহূর্তে রাজ্যে বিজেপিকে বয়কটের ডাক তীব্র হচ্ছে। সব গোষ্ঠীরই তোপের মুখে রাজ্যের শাসক দল। হিংসার প্রতিবাদে এবার নাগা সংগঠন ডাকল তিনদিনের ধর্মঘট। ইম্ফল-ভিত্তিক প্রভাবশালী মেইতেই নাগরিক সংগঠনগুলোর জোট ‘কোঅর্ডিনেটিং কমিটি অন মণিপুর’(কোসোমি) রাজ্যে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে। সংগঠনের তরফে সাধারণ মানুষকে বিজেপির কোনও কর্মসূচিতে অংশ না নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে, অসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতার কারণ ব্যাখ্যা করে মুখ্যমন্ত্রী খেমচাঁদ সিংয়ের কাছ থেকে বিস্তারিত বিবৃতি দাবি করেছে তারা। কোসোমির বর্ষীয়ান সদস্য শান্তা নাহাকপাম এই সরকারকে ‘স্বঘোষিত’ বলে অভিহিত করে অভিযোগ করেছেন যে, মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের কোনও সম্প্রদায়ের নাগরিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত নন এবং তিনি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার চেয়ে ব্যক্তিগত উচ্চাশা ও অ্যাজেন্ডাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। তাঁর মতে, সরকার ‘নারকো-টেররিস্ট’ ও উগ্রপন্থীদের হাতে সাধারণ মানুষের মৃত্যু রোখার মূল লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হয়েছে। নাহাকপাম আরও বলেন যে, আদিবাসীদের বিরুদ্ধে চলা এই ‘প্রক্সি ওয়ার’ বা ছায়াযুদ্ধ মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে সদর্থক সাড়া না পাওয়ার জন্য বিজেপির প্রতিটি স্তরের নেতা দায়ী। এই ব্যর্থতার প্রতিবাদেই মণিপুরে (Manipur) বিজেপির যেকোনও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বয়কট করার ডাক দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মণিপুরের শীর্ষ নাগা সংগঠন ‘ইউনাইটেড নাগা কাউন্সিল’ দুই নাগা ব্যক্তির হত্যার প্রতিবাদে এবং শোক পালনের উদ্দেশ্যে ২০ এপ্রিল মধ্যরাত থেকে ২৩ এপ্রিল মধ্যরাত পর্যন্ত নাগা অধ্যুষিত এলাকায় তিনদিনের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।প্রসঙ্গত, গত ৭ এপ্রিল বিষ্ণুপুর জেলার ত্রংলাওবি গ্রামে কুকি সম্প্রদায়ভুক্ত উগ্রপন্থীদের ছোঁড়া প্রজেক্টাইল বা শেলের আঘাতে দুই শিশু নিহত এবং তাদের মা গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকেই মণিপুর ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে। বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে গত ৮ এপ্রিল তিনজন বিক্ষোভকারী নিহত হন এবং অন্তত ৩০ জন আহত হন। পরবর্তী দিনগুলোতেও সংঘাত অব্যাহত থাকে। গত ১৪ এপ্রিল বিষ্ণুপুরে এবং ১৮ এপ্রিল উখরালে একাধিক অসামরিক নাগরিক গুলিতে প্রাণ হারান। শনিবার ইম্ফল পশ্চিমে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ও স্মোক বোমা ব্যবহার করলে পাঁচ জন আহত হন। মেইতেই নারী সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের ডাকা পাঁচদিনের রাজ্যব্যাপী বনধের ফলে ইম্ফলের জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

