জ্যে ক্ষমতায় এসেই একের পর এক বড় সিদ্ধান্ত নিয়ে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবার আরও একটি কড়া নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার। ‘প্রকাশ্যে নয়, শুধু সরকার স্বীকৃত কসাইখানাতেই বলি দিতে হবে গরু, মোষ’, কড়া নির্দেশিকা জারি করল রাজ্য সরকার। ১৩ মে দেওয়া সরকারি নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ‘পুরসভার চেয়ারম্যান কিংবা পঞ্চায়েত সভাপতির সঙ্গে সরকারি পশু চিকিৎসক – ২ জনের যৌথ সার্টিফিকেট থাকলে তবেই গরু, মোষ বলিতে ছাড়। সরকারি অনুমতি মেলার পরেই গরু, ষাঁড়, মোষ বলি দেওয়া যাবে। বলি দেওয়া যাবে শুধুমাত্র সরকার স্বীকৃত কসাইখানায়। বলি দিতে লাগবে নির্দিষ্ট সার্টিফিকেট, নির্দেশ সরকারের।

‘পুরসভার চেয়ারম্যান কিংবা পঞ্চায়েত সভাপতির সঙ্গে সরকারি পশু চিকিৎসক – ২ জনের যৌথ সার্টিফিকেট থাকলে তবেই গরু, মোষ বলিতে ছাড় পাওয়া যাবে’, সাফ জানানো হয়েছে সরকারি নির্দেশিকায়। পাশাপাশি, সার্টিফিকেট থাকলেও প্রকাশ্যে গরু, মোষ বলি দেওয়া যাবে না বলেও নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার।

গরু, মোষ, ষাঁড়, বাছুর বলি নিয়ে কড়া নির্দেশ দিল সরকার। আর এ প্রসঙ্গে সুপ্রিমকোর্ট, হাইকোর্টের নির্দেশ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি জারি করল সরকার। পশ্চিমবঙ্গ পশু হত্যা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫০-এর উল্লেখ করে সরকারি নির্দেশিকায় লেখা হয়েছে, ‘কোনও ব্যক্তি কোনও পশু (ষাঁড়, বলদ, গরু, বাছুর, পুরুষ ও স্ত্রী মোষ, মোষের বাচ্চা এবং মুষ্ক-ছেদিত মোষ) বলি দিতে পারবেন না, যদি না তিনি সেই পশুটি বলির উপযুক্ত – এই মর্মে কোনও শংসাপত্র সংগ্রহ করেন। কোনও পৌরসভার চেয়ারম্যান বা কোনও পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি এবং একজন সরকারি পশু চিকিৎসক যৌথভাবে পশুটি যে বলির উপযুক্ত সেই সংক্রান্ত শংসাপত্র প্রদান করতে পারেন, যদি তাঁরা উভয়েই এই বিষয়ে লিখিতভাবে একমত হন যে, কাজ ও প্রজননের ক্ষেত্রে পশুটির বয়স ১৪ বছরের বেশি অথবা পশুটি বার্ধক্য, আঘাত, বিকৃতি বা অন্য কোনও দুরারোগ্য ব্যাধির কারণে স্থায়ীভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছে,’ তবেই সেটিকে হত্যা করা যাবে। তবে প্রকাশ্যে নয়, যে পশুর ক্ষেত্রে শংসাপত্র প্রদান করা হয়েছে, সেই পশুটিকে শুধুমাত্র কোনও পৌর কসাইখানা অথবা স্থানীয় প্রশাসন কর্তৃক নির্ধারিত কোনও কসাইখানায় বলি দিতে হবে। কেউ নিয়ম ভাঙলে আইন মোতাবেক তাঁর কী শাস্তি হবে, সেটাও জানানো হয়েছে। নির্দেশিকা লঙ্ঘন করলে তাঁর ছয় মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড বা ১,০০০ টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।