হাইকোর্টের নির্দেশের পর মধ্যপ্রদেশের ধারে ঐতিহাসিক ভোজশালার দরজা হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্য সম্পূর্ণরূপে ফের খুলে দেওয়ার পর, প্রাঙ্গণের ভিতরে এক বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই উপলক্ষে, গঙ্গাজল ও গোমূত্র ছিটিয়ে সমগ্র ভোজশালা চত্বরকে শুদ্ধ করা হয়। রবিবার শুদ্ধিকরণের এই অনুষ্ঠানের পর, সনাতন সংস্কৃতি ও বৈদিক মন্ত্রের ধ্বনিতে পুরো চত্বরটি মুখরিত হয়ে ওঠে। পাশাপাশি, দেবী সরস্বতীর একটি প্রতীকী মূর্তিও এদিন ভোজশালায় স্থাপন করা হয় ৷ চত্বরটি শুদ্ধ করার পর, বৈদিক রীতি অনুযায়ী সেখানে রীতি মেনে পুজো-অর্চনাও শুরু হয় এদিন। ভোজশালার বিতর্কিত ওই পরিশর শুদ্ধ করার পর, ব্রাহ্মণরা বৈদিক রীতি অনুযায়ী পুজো-অর্চনা শুরু করেন। অনুষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য প্রথমে নবগ্রহ পুজো করা হয়। এরপর, বিদ্যার দেবী বাগদেবী সরস্বতীর প্রতীকী প্রতিমা ভোজশালার প্রধান গর্ভগৃহে রীতি মেনে স্থাপন করা হয়। দেবী সরস্বতীর ওই মূর্তিটি জমকালো শোভা যাত্রার মাধ্যমে এদিন সকালেই ভোজশালায় নিয়ে আসা হয় ৷ এরপর তাঁর পুজো হওয়ার পর আরতিও করা হয় ৷ সুখ ও সমৃদ্ধির জন্য প্রার্থনাও করা হয়। এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু ছিল যজ্ঞশালা ৷ যেখানে একটি বিশেষ যজ্ঞকুণ্ড নির্মাণ করা হয়। যজ্ঞে আহুতি দেন ভক্তরা ৷ ভোজশালাকে মুক্ত করার দীর্ঘদিনের প্রতিজ্ঞা এই আহুতির মধ্য়ে দিয়ে পূরণ করেন তাঁরা। এই উপলক্ষে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সাবিত্রী ঠাকুর ঘোষণা করেন, অযোধ্যার আদলে ভোজশালার উন্নয়ন করা হবে ৷ লন্ডন থেকে দেবীর মূর্তি ফিরিয়ে এনে এখানে স্থাপন করার প্রচেষ্টাও চালানো হবে। এই প্রতিজ্ঞা পূরণের প্রতীক হিসেবে এমনই ঐতিহাসিক পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয় এদিন।
যথোপযুক্ত আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মন্দির থেকে অখণ্ড প্রদীপটি এনে ভোজশালার মূল গর্ভগৃহে স্থাপন করা হয়। প্রকৃতপক্ষে, ভোজশালাকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত করার প্রতিজ্ঞা নিয়ে জ্যোতি মন্দিরে বেশ কয়েক বছর ধরে একটি অখণ্ড প্রদীপ প্রজ্বলিত ছিল। আজ, পূর্ণ আচার-অনুষ্ঠান ও জাঁকজমকের সঙ্গে, আন্দোলন ও ভক্তির প্রতীক হয়ে ওঠা সেই চিরন্তন শিখাটিকে জ্যোতি মন্দির থেকে এনে ভোজশালার মূল গর্ভগৃহে স্থাপন করা হয়েছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে ভোজশালা চত্বরে বহু ভক্ত সমবেত হয়েছিলেন। এই দীর্ঘদিনের প্রতিজ্ঞা পূরণ এবং গর্ভগৃহে চিরন্তন শিখা স্থাপনকে কেন্দ্র করে সমগ্র এলাকা জুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে।

