ভারতকে সুযোগ সম্ভবনার দেশ হিসেবে তুলে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ৷ নেদারল্যান্ড থেকে শনিবার তিনি জানান, দেশ বর্তমানে এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ৷ এর আকাঙ্ক্ষাগুলিও আর দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। দ্য হেগে প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায়ের উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ভারত এখন বড় স্বপ্ন দেখছে ৷ দেশের যুবসমাজের আকাশ ছোঁয়ার আকাঙ্ক্ষা বাড়ছে ৷ 40 মিনিটেরও বেশি সময় ধরে দেওয়া তাঁর ভাষণে মোদি বলেন, “একবিংশ শতাব্দীর ভারত হলো সুযোগ সম্ভবনার দেশ। ভারত একইসঙ্গে প্রযুক্তি-চালিত এবং মানবতা-চালিত। ভারত যতটা প্রাচীন, ঠিক ততটাই আধুনিক হয়ে উঠছে। তাই, এটিই হলো ভারতে আপনাদের পুনরায় যুক্ত হওয়ার এবং একটি উন্নত ভারতের যাত্রায় অংশীদার হওয়ার উপযুক্ত সময়।” তিনি নেদারল্যান্ডসে বসবাসরত ভারতের সকল বন্ধুকে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা যথাসম্ভব বৃদ্ধি করার আহ্বানও জানান। দর্শকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এর ফলে ভারতের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি পাবে এবং আপনাদের বিনিয়োগের উপর প্রাপ্ত রিটার্নও অনেক বেশি হবে। এটি মোদির গ্যারান্টি।” তিনি বলেন, “আজ আমাদের ভারত বড় বড় স্বপ্ন দেখছে। আজ দেশ বলছে—আমরা কেবল রূপান্তর চাই না, আমরা চাই সর্বোত্তম কিছু। আর আমরা কেবল সর্বোত্তমই চাই না, আমরা চাই তা যেন হয় দ্রুত গতিতে। আর ঠিক এই কারণেই, যখন ভারতের আকাঙ্ক্ষাগুলি অসীম হয়ে উঠেছে, তখন আমাদের প্রচেষ্টাগুলিও হয়ে উঠছে সীমাহীন।” প্রধানমন্ত্রী মোদির কাথায়, ভারতের যুবসমাজ এখন আকাশ ছুঁতে চািচে ৷ আর ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম বা উদ্যোগ-ব্যবস্থা ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ওঠার পেছনে তিনি এই বিষয়টিকেই অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। মোদি আরও বলেন, “আজ ভারতের আকাঙ্ক্ষাগুলি আর দেশের ভৌগোলিক সীমানার মধ্যে আবদ্ধ নেই। ভারত এখন অলিম্পিকের আয়োজক হতে চায়, একটি আন্তর্জাতিক উৎপাদন কেন্দ্রে (ম্যানুফ্যাকচারিং হাব) পরিণত হতে চায়, গ্রিন এনার্জির ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিতে চায় এবং বিশ্বের প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়।”
মোদি জানান, ভারত বর্তমানে এক অভূতপূর্ব রূপান্তরের অভিজ্ঞতা লাভ করছে। তিনি আরও বলেন, “আপনারা নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছেন যে, সম্প্রতি ভারত বিশ্বের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে সফল ‘এআই (AI) শীর্ষ সম্মেলন’-এর আয়োজন করেছে। তারও আগে, ভারত অত্যন্ত সফলভাবে জি-20 (G20) শীর্ষ সম্মেলনেরও আয়োজন করেছিল। আর এটি কোনও বিচ্ছিন্ন বা এককালীন ঘটনা ছিল না; বরং এটি এখন আজকের ভারতেরই একটি অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে।” ভারতের মহাকাশ অভিযানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “ভারত চাঁদে পৌঁছেছে শুধু নয়, চাঁদের এমন এক স্থানে পৌঁছেছে, যেখানে আগে কেউ পৌঁছতে পারেনি।” 2023 সালে ভারতের ‘চন্দ্রযান-3’ অভিযানটি চাঁদের দূরবর্তী পৃষ্ঠে—যা প্রায়শই ‘অন্ধকার দিক’ (dark side) হিসেবে পরিচিত ৷ সফলভাবে সেখানে ‘সফট ল্যান্ডিং’ বা মৃদু অবতরণ করার মধ্য দিয়ে ভারত ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। 2014 সালে ভারতে মাত্র চারটি ‘ইউনিকর্ন’ (1 বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠান) ছিল—সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে এদিন প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বর্তমানে দেশে প্রায় 125টি সক্রিয় ইউনিকর্ন রয়েছে। আজ আমাদের স্টার্টআপগুলি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI), প্রতিরক্ষা এবং মহাকাশ খাতে অসাধারণ কাজ করছে। গবেষণা ও উদ্ভাবনের এই সংস্কৃতি ক্রমশ আরও প্রসারিত হচ্ছে।” প্রধানমন্ত্রী জানান, ভারতের আকাঙ্ক্ষা-চালিত এই অগ্রযাত্রা দেশের গণতন্ত্রকেও শক্তিশালী করে তুলছে ৷ এ প্রসঙ্গে তিনি সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনের কথাও উল্লেখ করেন ৷তাঁর দাবি, নেদারল্যান্ডস ইউরোপের বাজারে প্রবেশের ক্ষেত্রে ভারতীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য একটি স্বাভাবিক প্রবেশদ্বার হয়ে উঠবে ৷ তিনি আরও যোগ করেন যে, এই যাত্রাপথে প্রবাসী ভারতীয়রা একটি বিশ্বস্ত সেতুবন্ধনের কাজ করতে পারেন। কোভিড মহামারী, আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বর্তমান দশকটি বিশ্বের জন্য একটি চ্যালেঞ্জের দশকে ক্রমে পরিণত হচ্ছে।” তাঁর সতর্কবাণী, “যদি এই পরিস্থিতিগুলির দ্রুত পরিবর্তন না ঘটে, তবে গত কয়েক দশকের অর্জিত সাফল্যগুলিও ভেসে যাবে। বিশ্বের জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ আবারও দারিদ্র্যের আবর্তে জড়িয়ে যাবে।” তাঁর সংযোজন, “জ্বালানি নিরাপত্তা থেকে শুরু করে জল নিরাপত্তা— সব ক্ষেত্রেই নেদারল্যান্ডস ও ভারত একসঙ্গে কাজ করছে। গ্রিন হাইড্রোজেন (Green Hydrogen) নিয়ে আমাদের পারস্পরিক সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর ভারত ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) মধ্যে স্বাক্ষরিত ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি ভারত ও নেদারল্যান্ডসের মধ্যেকার এই অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে ৷”

