শ্লীলতাহানি এবং তোলাবাজির মামলায় ধৃত স্বরূপ বিশ্বাস। তিনি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী এবং তৃণমূল নেতা অরূপ বিশ্বাসের ভাই। বৃহস্পতিবার রাতে নিউ আলিপুর থানার পুলিসের হাতে গ্রেফতার হয় স্বরূপ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, টলিপাড়ায় টেকনিশিয়ানদের থেকে টাকা তুলতেন তিনি।আগামীকাল তাঁকে আদালতে তোলা হবে বলে সূত্রের খবর।
স্বরূপ বিশ্বাস কাউন্সিলর-বিধায়ক না হয়েই বিরাট প্রভাব। স্টুডিও পাড়ায় একচ্ছত্র আধিপত্য স্বরূপ। কাউকে ব্যান-কারও শুটিং বন্ধ করে দেওয়া। তৃণমূল জমানায় যতেচ্ছ তোলাবাজি টালিগঞ্জে সিন্ডিকেট চালানর অভিযোগ। টালিগঞ্জের ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার সভাপতি ছিলেন স্বরূপ। দীর্ঘ দিন ধরেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল একাংশের কলাকুশলী এবং কর্মচারীদের। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকাকালীন স্বরূপের দাপট ছিল। এদিন স্টুডিও পাড়ায় তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া স্বরূপ বিশ্বাসকে ঘিরে সামনে আসছে একের পর এক অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রিজেন্ট পার্ক এলাকার মহিলার মেক-আপ আর্টিস্টের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্তে নামে নিউ আলিপুর থানা। অভিযোগকারী মেক-আপ আর্টিস্ট গিল্ডের সদস্য ছিলেন। তাঁর দাবি, গত প্রায় দু’বছর ধরে তিনি কোনও কাজ পাননি। কাজের সুযোগ চেয়ে যোগাযোগ করলে তাঁর কাছ থেকে টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়, তাঁকে ভয় দেখানোও হয়েছিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে কাজ দিচ্ছিলেন না স্বরূপ বিশ্বাস। তাঁকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বাড়িতে গিয়ে স্বরূপ বিশ্বাসের লোকজন শাসিয়ে এসেছিলেন। তিনি কাজ না পেয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করেছিলেন। সেটা দেখে দেব তাঁর ছবিতে ওই মেক-আপ আর্টিস্টকে কাজ দেন। মহিলার আরও দাবি, তাঁর এক সহকর্মী কাজের আশায় স্বরূপ বিশ্বাসকে ৪৫ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, হুমকি দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা তোলার অভিযোগও রয়েছে স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এদিকে, সম্প্রতি স্টুডিও পাড়ার ফেডারেশন নিয়েও বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বুধবার টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী ঘোষণা করেন, স্টুডিও পাড়ায় আর ফেডারেশনের কোনও অস্তিত্ব থাকবে না। তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে দিল্লি থেকেই এই ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ করা হবে। পাপিয়া অধিকারী জানান, টলিউডের সমস্ত কলাকুশলীকে দিল্লিভিত্তিক ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স কনফেডারেশনের আওতায় আনা হবে। চলচ্চিত্র শিল্পকে দুর্নীতিমুক্ত এবং স্বচ্ছ করে তোলার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। ফেডারেশনের অস্তিত্ব বিলোপের ঘোষণার পরপরই স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি ঘিরে স্টুডিও পাড়া এবং রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। পুলিশ গোটা ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। গত মে মাসেই স্বরূপের স্ত্রী জুঁই বিশ্বাস আইনি পথে বিবাহবিচ্ছেদের জন্য পদক্ষেপ করেছেন। কলকাতা পুরসভার ৮১ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর তথা ১০ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন জুঁই নিজেই এ কথা জানিয়েছেন।

