অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আস্থা অটুট মমতার। সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদেই বহাল থাকছেন অভিষেক। যুব সংগঠনের দায়িত্বেও বহাল রাখা হয়েছে সায়নী ঘোষকে। শুক্রবার বিকেল ৪টে থেকে কালীঘাটে তৃণমূল নেতাদের নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকের পরই দলের নতুন সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় সূত্রের খবর, মমতা নিজে তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারপার্সন পদে বহাল থাকছেন। দলের সাংগঠনিক কাজকর্মে অভিষেককে সহায়তা করার দায়িত্বে ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং দোলা সেন। তাঁরা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সামলাবেন বলে জানা গিয়েছে। গত ৩ জুন পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূলের সমস্ত সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর দলে ভাঙন এবং বিদ্রোহী বিধায়কদের আবহে এই সিদ্ধান্ত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অনেকেরই জল্পনা ছিল, সাংগঠনিক রদবদলের সঙ্গে শীর্ষ নেতৃত্বের পদে কি বড় পরিবর্তন আসতে পারে? কিন্তু শুক্রবারের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হয়ে গেল, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর মমতার ভরসায় কোনও চিড় ধরেনি। প্রসঙ্গত, ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে প্রায় অপরিবর্তিত রেখে সংগঠন পুনর্গঠনের পথে হাঁটল তৃণমূল। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দলের কর্মী-সমর্থকদের কাছে ঐক্যের বার্তা দিতে চেয়েছেন মমতা। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সাংগঠনিক সংকটের সময়েও তাঁর সবচেয়ে বিশ্বস্ত নেতৃত্বের তালিকায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সায়নী ঘোষের অবস্থান অপরিবর্তিতই থাকছে। এখন নজর নতুন জেলা, ব্লক এবং শাখা সংগঠন গঠনের দিকে। সমস্ত কমিটি ভেঙে দেওয়ার পর নতুন সাংগঠনিক কাঠামো কবে ঘোষণা করা হবে, সেই দিকেই তাকিয়ে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থক মহল।
কে কোন পদে এলেন?
- রাজ্য তৃণমূলের সভাপতি হয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য।
- জাতীয় কর্মসমিতির সহ-সভাপতি পদে থাকছেন সুব্রত বক্সী।
- রাজ্যে তৃণমূলের সহ-সভাপতি হয়েছেন সাজদা আহমেদ, মমতা ঠাকুর, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং স্বাতী খন্দকার
- রাজ্য সাধারণ সম্পাদক পদে এসেছেন বাবর আলি, পুলক রায়, অসীমা পাত্র, অরূপ বিশ্বাস এবং রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়।
- দলের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে রয়েছেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, ডা. রানা চট্টোপাধ্যায়, বিদেশ বোস, তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য, জয়া দত্ত, তাপস চট্টোপাধ্যায়, বসুন্ধরা গোস্বামী এবং গৌতম দেব।
- তৃণমূল যুব কংগ্রেস (TMYC)-এর সভাপতি হিসেবে থাকছেন সায়নী ঘোষ এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন মধুরিমা ঠাকুর।
- তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের সভানেত্রী পদে রাখা হয়েছে মালা রায়কে
- তৃণমূল ছাত্র পরিষদে সভাপতি পদে এসেছেন প্রিয়াঙ্কা অধিকারী
- দলের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি মলয় ঘটক
- হকার্স সংগঠনের সভাপতি মদন মিত্র
- তৃণমূলের কৃষক সংগঠনের সভাপতি বেচারাম মান্না
- দলের ক্ষেতমজুর সংগঠনের সভাপতি পূর্ণেন্দু বসু
- তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (SC/ST) সেলের সভাপতি: বীরবাহা হাঁসদা
- তৃণমূলের মুখপাত্র হিসেবে থাকছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং কুণাল ঘোষ। এখন যাঁরা প্যানেলিস্টরা আছেন তাঁরাও দায়িত্বে বহাল থাকবেন।
- দলের কোষাধ্যক্ষ নিযুক্ত করা হয়েছে শুভাশিষ চক্রবর্তীকে

