পড়ুয়াদের উপর লাঠিচার্জ, পেলেট গান ছোড়ার প্রতিবাদে উত্তপ্ত সংসদের দুই কক্ষ ৷ এরই মধ্যে শুক্রবার কোনও আলোচনা ছাড়াই লোকসভায় জন্ম ও মৃত্যু নথিভুক্তিকরণ (সংশোধিত) বিল, 2026 পাশ হয়ে গেল ৷ 1969 সালের জন্ম-মৃত্যু নথিভুক্তিকরণ বিল সংশোধন করে এই বিল তৈরি হয়েছে ৷ দুুপুরে সংসদের নিম্নকক্ষের অধিবেশন শুরু হলে তুমুল হইচই শুরু হয় ৷ অধ্যক্ষের চেয়ারে ছিলেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ সাইকিয়া ৷ বিলটি বিবেচনার জন্য পেশ করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই ৷ বিরোধীদের স্লোগানের মধ্যে ধ্বনি ভোটে পাশ হয়ে যায় বিল ৷ বিরোধী সাংসদদের অনেকেই ওয়েলে নেমে চেঁচামেচি করতে থাকেন ৷ লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ কেন নেই, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাঁরা ৷

নয়া বিলে বদল

বর্তমানে জন্ম বা মৃত্যুর এক বছরের বেশি পরে নথিভুক্তি করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডিস্ট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট (ডিএম), সাব-ডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট (এসডিএম) বা একজন এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের অর্ডারের প্রয়োজন ৷ এই সংশোধিত বিল আইন হলে জন্ম বা মৃত্যুর এক থেকে দু’বছর পর নথিভুক্ত করলে বর্তমান নিয়মেই তা করা যাবে ৷ কিন্তু নথিভুক্ত করার সময় দু’বছরের বেশি হলে ফার্স্ট ক্লাস জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অর্ডার প্রয়োজন ৷ এদিকে বিল নিয়ে আলোচনায় বিরোধীরা অংশ না-নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু ৷ তিনি বলেন, ” আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাশ হয়ে গেল ৷ কিন্তু আমরা চেয়েছিলাম প্রত্যেকে এই বিল নিয়ে আলোচনায় অংশ নিন ৷ বিজনেস অ্যাডভাইজরি কমিটি এর জন্য় সময় নির্দিষ্ট করে রেখেছিল ৷ আপনারা কক্ষ ছেড়ে চলে যাবেন এবং বাইরে গিয়ে বলবেন বিলটা আলোচনা ছাড়াই পাশ হয়ে গিয়েছে ৷” তিনি আরও বলেন, “এটা দুর্ভাগ্যজনক ৷ ভবিষ্যতে এরকম করবেন না ৷ মানুষ আপনাদের নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন ৷ আপনাদের থেকে জবাব চাইবে ৷” বিল পাশে কোনও সহযোগিতা না-করার ঘটনাকে দিলীপ সাইকিয়া ‘দুর্ভাগ্যজনক’ বলে উল্লেখ করেন ৷ এর মধ্যে সংবিধান সংশোধনী বিল (130তম সংশোধন), 2025 বিল নিয়ে আলোচনার জন্য যৌথ সংসদীয় কমিটির সদস্য বিজেপি সাংসদ অপরাজিতা ষড়ঙ্গি বিল নিয়ে রিপোর্ট পেশের জন্য আরও সময় চান ৷ চলতি বছরের শীতকালীন অধিবেশনের শেষ সপ্তাহের প্রথম দিন পর্যন্ত তাঁকে সময় মঞ্জুর করা হয় ৷