গোয়েন্দা আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা খুনে দোষী সাব্যস্ত হয়েছে প্রাক্তন আপ কাউন্সিলর তাহির হুসেন ৷ শুক্রবার এই অপরাধে হুসেন-সহ পাঁচজনকে আজীবন কারাবাসের সাজা শুনিয়েছে দিল্লির কারকারডুমা আদালত ৷ ২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘর্ষের সময় দয়ালপুর এলাকায় গোয়েন্দা আধিকারিক অঙ্কিত শর্মা হত্যার ঘটনায় তাহির-সহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল ৷ গোয়েন্দা প্রধানের ক্ষতবিক্ষত দেহ নর্দমা থেকে উদ্ধার করা হয় ৷
অ্যাডিশনাল সেশনস জাজ প্রবীণ সিং গত ১৩ জুলাই তাহির হুসেন, নজীম, কাসিম, অনস এবং জাভেদকে দোষী সাব্যস্ত করে ৷ দিল্লি পুলিশ দোষীদের ফাঁসির সাজা দাবি করেছিল ৷ কিন্তু আদালত দোষীদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়ার জন্য আজীবন কারাবাসের সাজা শুনিয়েছে ৷ পুলিশ এই মামলাকে ‘বিরলের মধ্যে বিরলতম’ বলেও উল্লেখ করেছিল ৷ এদিকে আজীবন কারাবাসের সাজা শোনার পর আদালতের বাইরে বেরিয়ে তাহির হুসেন বলে, “হাইকোর্টে ন্যায়বিচার পাব ৷ এখনও সময় আছে ৷” এদিন সাজা ঘোষণার জন্য কারকারডুমা আদালত চত্বরে কড়া নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করা হয়েছিল ৷ আইনজীবী থেকে শুরু করে পুলিশ আধিকারিকদের ভিড় উপচে পড়ছিল ৷ হাজির ছিলেন ক্রাইম ব্রাঞ্চের যুগ্ম কমিশনার এবং পুলিশের ডেপুটি কমিশনার ৷ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) বিরুদ্ধে সংঘর্ষে উত্তপ্ত ছিল উত্তর-পূর্ব দিল্লি । জ্বালিয়ে দেওয়া হয় একাধিক বাড়িঘর । এই সময়ে ফেব্রুয়ারিতে হত্যা করা হয় গোয়েন্দা আধিকারিক অঙ্কিত শর্মাকে ৷ ২০২০ সালের ৩ জুন দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ এই খুনের ঘটনায় চার্জশিট পেশ করে ৷ চার্জশিটে পুলিশ জানায়, ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি তাহির হুসেনের নেতৃত্বে একদল উন্মত্ত জনতা চাঁদ বাঘ কালভার্টের কাছে সাম্প্রদায়িক হিংসায় প্ররোচনা দেয় ৷ তাহিরের নেতৃত্বে একদল জনতাই অঙ্কিত শর্মাকে খুন করেছে বলে চার্জশিটে অভিযোগ করা হয় ৷
হত্যার ঘটনাটি ঘটে খাজুরি খাস এলাকায় তাহিরের বাড়ির বাইরে ৷ গোয়েন্দা আধিকারিক অঙ্কিত শর্মাকে খুনের পর তার দেহ নালার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয় ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, অনেকেই অঙ্কিত শর্মার দেহ নালার মধ্যে ফেলে দিতে দেখেছিল ৷ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁর দেহে ৫১টি ক্ষতচিহ্ন পাওয়া গিয়েছে ৷ ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে আঘাত করা হয়েছিল ৷ তাহির হুসেনই চাঁদ বাঘ এলাকায় ওই জনতাকে উসকে দিয়েছিল বলে চার্জশিটে উল্লেখ করা হয় ৷

