টলিউডে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এসএসকেএম হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বর্ষীয়ান পরিচালক রাজা সেন। তাঁর মৃত্যুতে টলিপাড়ায় একটা যুগের অবসান হল। রবিবার ভোরে 70 বছর বয়সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে তাঁর । খবরে সিলমোহর দিয়েছেন অভিনেতা শুভ্রজিৎ দত্ত । প্রয়াত পরিচালককে শেষবারের মতো টেকনিশিয়ান্সে আনা হবে কি না সেই ব্যাপারে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলেই জানান তিনি । তবে রবিবার দুপুরে নন্দনে নিয়ে যাওয়া হবে পরিচালকের দেহ ৷ সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারবেন শিল্পীরা ৷ জানা গিয়েছে, গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় পরিচালক রাজা সেন ভর্তি ছিলেন কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে । গত শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি । এরপরই তড়িঘড়ি তাঁকে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয় । ভেন্টিলেশনে রাখতে হয় তাঁকে । খবর পেয়ে প্রবীণ পরিচালককে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন টালিগঞ্জের বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী । টলিপাড়া সূত্রে খবর, শুক্রবার সকালে পর পর দু’বার হৃদরোগে আক্রান্ত হন রাজা সেন । এরপর এসএসকেএম হাসপাতালে পরিচালকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করে দেন অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত । বেশ কিছুদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত কারণে ভুগছিলেন রাজা । এরপর শুক্রবার সকালে হৃদরোগে আক্রান্ত হন তিনি । সেই ধকল আর নিতে পারলেন না । চলে গেলেন রাজা সেন । চলতি বছরের শুরুতেও তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল এবং অস্ত্রোপচারও হয়েছিল । কয়েক বছর ধরে চলা শারীরিক জটিলতার মধ্যে স্নায়ু ও চলাফেরার সমস্যার কথাও শোনা গিয়েছে ।
বাংলা চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনের জগতে রাজা সেনের দীর্ঘ ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে । ‘আত্মীয়স্বজন’ এবং ‘ল্যাবরেটরি’-র মতো ছবির পাশাপাশি ‘দামু’, ‘চক্রব্যুহ’, ‘দেশ’, ‘দেবীপক্ষ’, ‘বিশ্ব ও অর্জুন’, ‘কৃষ্ণকান্তের উইল’, ‘তিনমূর্তি’, ‘মৌবনে আজ’, ‘কলোনেল’, ‘মায়ামৃদঙ্গ’র মতো জনপ্রিয় সব ছবির পরিচালক রাজা সেন ।
এছাড়াও একাধিক ডকুমেন্টারি বানিয়েছেন তিনি ৷ বাংলা টেলিভিশনেও রয়েছে তাঁর অগণিত কাজ ৷ বাংলা ছবি ‘দামু’ এবং ‘আত্মীয়স্বজন’, সুচিত্রা মিত্রকে নিয়ে তৈরি ডকুমেন্টারির জন্য তিনবার জাতীয় পুরস্কার পান তিনি ৷ তাঁর পরিচালনায় ‘দেশ’ ছবিতে অমিতাভ বচ্চন এবং জয়া ভাদুড়িও অভিনয় করেন ৷ রাজা সেনের মতো পরিচালকের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ টলিপাড়া ৷

