শহরের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট-এর একযোগে অভিযান ! বৃহস্পতিবার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার এই আচমকা অভিযানে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা শিলিগুড়ি জুড়ে । বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের সঙ্গে নিয়ে শহরের মোট 4টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালাতে শুরু করেন তদন্তকারীরা । অভিযানের অন্যতম মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল শিলিগুড়ির বর্ধমান রোড । এদিন সকালে প্রথম অভিযানটি চালানো হয় বর্ধমান রোড এলাকার বাসিন্দা সন্দীপ বৈদের বাড়ি ও তাঁর কার্যালয়ে । সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে বাড়িটি ঘিরে রেখে ভেতরে নানাবিধ নথিপত্র, আর্থিক লেনদেনের হিসেব ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হয় । একইসঙ্গে বাগডোগরার পরিচিত ব্যবসায়ী তথা সুপারি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ধীরজ ঘোষের বাড়িতেও হানা দেন ইডি আধিকারিকরা । পাশাপাশি শিলিগুড়ির পানিট্যাঙ্কি মোড়ে ধীরজ ঘোষের ট্রান্সপোর্টের অফিসেও হানা দেয় ইডি । সেখানেও বিভিন্ন নথিপত্র এবং বয়ান মিলিয়ে দেখার কাজ চলছে । নিরাপত্তা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা এলাকা ঘিরে রেখেছেন । এছাড়াও শহরের আরও বেশ কয়েকটি জায়গায় একই সময়ে তল্লাশি চালান আধিকারিকরা । এই বিষয়ে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রেজার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চাননি । অভিযান চালানো হলেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কিছু জানানো হয়নি । তবে 2024 সালের একটি নির্দিষ্ট মামলার সূত্র ধরে এই অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে সূত্র মারফত । তল্লাশিতে কী কী গুরুত্বপূর্ণ নথি বা নগদ উদ্ধার হয়েছে, কিংবা কার কার বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ রয়েছে- এই বিষয়গুলি নিয়ে ইডি-র তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট মন্তব্য মেলেনি । তবে সূত্রের খবর, আর্থিক গরমিল ও অবৈধ লেনদেনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র ধরেই আধিকারিকরা এই তল্লাশি চালিয়ে যাচ্ছেন । একই দিনে ও একই সময়ে শিলিগুড়ির একাধিক ব্যবসায়ীর আস্তানায় কেন্দ্রীয় এজেন্সির এই অভিযানে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ীমহলে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে । অভিযানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সাধারণ মানুষের মধ্যেও জোর চর্চা শুরু হয়েছে ।

