ভাবনগর জেলায় ভেজাল মদ্যপানের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর ৷ আরও ৩৯ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গুজরাত ‘ড্রাই স্টেট’ বা মদ্যপান-নিষিদ্ধ রাজ্য হিসাবে ঘোষিত ৷ অ্যালকোহল উৎপাদন, বিক্রি ও সেবন রাজ্যে সম্পূর্ণ আইনত নিষিদ্ধ ৷ সেখানেই বিষমদে মৃত্যু হল সাত জনের ৷ ঘটনায় ২১ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে ৷ পুলিশ ১২ জন অবৈধ মদ বিক্রেতাকে আটকও করেছে ৷ ভাবনগর রেঞ্জের আইজি আরভি আসারি বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং প্রায় ৪০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৷ তিনি বলেন, “ভারতের থানার অন্তর্গত খারাকাদি গ্রামে বিষাক্ত ও রাসায়নিক-মিশ্রিত মদ্যপানের ফলে এক ব্যক্তির মৃত্যুর পরই মামলা দায়ের করা হয়েছিল ৷ পরবর্তীতে ২১ জনের নামে এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে ৷”
পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে ৷ মামলা পরিচালনার জন্য রাজ্য মনিটরিং সেলের একটি দলকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে ওই আধিকারিক জানান ৷ আইজি বলেন, “এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় 12 জনকে আটক করা হয়েছে ৷” পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সকলেই একটি জনপ্রিয় ‘ইন্ডিয়ান-মেড ফরেন লিকার’ ব্র্যান্ডের নকল বোতলে ভরা ভেজাল মদ পান করেছিলেন ৷ ভাবনগরের কালেক্টর মণীশ কুমার জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ছ’টা নাগাদ প্রশাসনের কাছে খবর আসে, খারাকাদি গ্রামে একটি পার্টির সময় অবৈধ মদ্যপান করে পাঁচ বন্ধু অসুস্থ হয়ে পড়েন ৷ তিনি জানান, পরে জানা যায় ভাবনগর শহরের অন্যান্য গ্রাম ও এলাকার মানুষও এতে আক্রান্ত হয়েছেন ৷ পুলিশ সুপার নীতেশ পাণ্ডে জানান, কয়েক দিন আগে ওই গ্রামে বেশকিছু মানুষ একটি আইএমএফএল ব্র্যান্ডের নকল বোতল থেকে মদ্যপান করেছিলেন ৷ এরপরই তাঁদের স্বাস্থ্যের অবনতি হয়। স্যর টি হাসপাতাল এবং আমেদাবাদের কিডনি হাসপাতাল আইকেডিআরসি (IKDRC)-র চিকিৎসকদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, অসুস্থদের পরীক্ষার পর একটি সাধারণ বিষয় লক্ষ্য করা গিয়েছে- তাঁদের অধিকাংশই নকল মদের বোতল থেকে পান করেছিলেন ৷
প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে যে, এই বোতলগুলি মধ্যপ্রদেশ থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল। ঠিক কোথা থেকে এগুলি আনা হয়েছিল, কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং কে এগুলি ভাবনগরে পাঠিয়েছিল-সেই বিষয়গুলো নিয়ে তদন্ত চলছে বলে পুলিশ সুপার জানান।

