banganews.net

অবশেষে কিনারা হলো তেলঙ্গানার নালগোন্ডা জেলার বেসরকারি স্কুলের প্রিন্সিপাল রূপা রেড্ডি খুনের। ধারালো অস্ত্র দিয়ে ২৭ বার কুপিয়ে তাঁকে খুন করা হয়েছিল। নালগোন্ডা জেলায় রূপার বাড়ি থেকে তাঁর ক্ষতবিক্ষত মৃতদেহ উদ্ধার হয় ১১ অগস্ট। তিনি বাড়িতে একাই ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ‘নাগার্জুন গ্রামার কনসেপ্ট স্কুল’-এর প্রিন্সিপালকে খুনের অভিযোগে তাঁরই স্কুলের ক্লাস টেনের দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ওই স্কুল নালগোন্ডা জেলার কোন্ডামাল্লেপাল্লি এলাকায়। তদন্তকারীদের দাবি, সবচেয়ে বড় ক্লু ছিল একটাই কথা, ‘বাবু’। তদন্তে নেমে জানা যায়, ১১ অগস্ট প্রিন্সিপাল রূপা তাঁর কাকিমার সঙ্গে মোবাইল ফোনে শেষ কথা বলেছিলেন। কাকিমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে করতে পুলিশ জানতে পারে, কথা বলতে বলতেই রূপার ফোন সুইচড অফ মোডে চলে যায়। কথা শেষ হওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগে রূপাকে চেঁচিয়ে ‘বাবু’ বলতে শুনেছিলেন তাঁর কাকিমা। পুলিশ জানায়, হায়দরাবাদে সাধারণত ‘বাবু’ বলে ডাকা হয় স্কুলের ছাত্রদের। সেই সূত্রকে কাজে লাগিয়ে রূপার স্কুলের ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেন তদন্তকারীরা। একই সঙ্গে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয় রূপার দৈনন্দিন কাজের সঙ্গে যুক্ত লোকজনদের। স্কুলের কর্মী, শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পরিচারিকারাও সেই তালিকায় ছিলেন। এর মধ্যে রূপারই স্কুলের ক্লাস টেনের দুই ছাত্রের অস্বাভাবিক হারে টাকা খরচের ঘটনা নজর কাড়ে পুলিশের। বন্ধুদের নিয়ে পার্টি করা, রেস্তোরাঁয় গিয়ে দেদার খাওয়াদাওয়া, দামি জিনিস কেনা পুলিশের স্ক্যানারে আসে। নালগোন্ডার পুলিশ সুপার শরৎচন্দ্র পাওয়ার জানান, ১৯ অগস্ট, বুধবার সকালে ওই দুই ছাত্রকে টানা জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। তাদের একজনের কাছ থেকে উদ্ধার হয় ১ লক্ষ ৫১ হাজার টাকা এবং একটি আই ফোন। ওই ছাত্র প্রথমে দাবি করে, টাকা সে তার অভিভাবকের কাছ থেকে পেয়েছেন। কিন্তু সেই টাকার কয়েকটি নোটে রক্তের দাগ দেখে সন্দেহ জোরদার হয় পুলিশের। ছাত্রদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়,তারা মদ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। একজনের দামি মোটরবাইক ও গাড়ি চালানোর নেশা রয়েছে। দ্রুত টাকা রোজগারেও ইচ্ছেও রয়েছে তার।

পুলিশ সুপার জানান, ওই ছাত্রের আচরণ দেখে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে সন্দেহ বেড়িছিল প্রিন্সিপাল রূপারও। তিনি ও স্কুলের কয়েকজন কর্মী এক ছাত্রের ব্যাগে অনেক টাকা ও দামি আই ফোন দেখতে পান। ছাত্রকে তিরস্কার করা হয়। রূপা সিদ্ধান্ত নেন, ওই ছাত্রকে স্কুলের হস্টেলে আর রাখবেন না। তাকে কেবল স্কুলের ক্লাস করতে দেবেন। ছাত্রের অভিভাবককে ডেকে পাঠিয়ে রূপা তাঁর সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন। পুলিশের সন্দেহ, ওই ঘটনার পরে রূপার বাড়ি টার্গেট করে ওই ছাত্র ও তার সহপাঠী। পুলিশ জানায়, তাদের ধারণা হয়, ১১ অগস্ট রূপার বাড়িতে অনেক টাকা থাকবে। কারণ, ১১ অগস্ট স্কুলের ফি জমা দেওয়ার দিন। ৬ অগস্ট থেকে রূপার বাড়িতে হানা দেওয়ার পরিকল্পনা করে দুই ছাত্র। তারা গ্লাভস ও ধারালো ছুরি জোগাড় করে। রূপার বাড়ির চারদিকে ঘুরে রেকি করে। এমনকী, সিসিটিভি-র নজরদারি এড়িয়ে কী করে বাড়িতে ঢোকা যায়, সেই পরিকল্পনাও করে। ১১ অগস্ট এক ছাত্র রূপার বাড়ির পাঁচিল টপকে ভিতরে ঢোকে। অন্য ছাত্র ছিল বাড়ির বাইরে, পাহার দিতে। বাড়ির ভিতরে ছাত্র দেখতে পেয়ে কাকিমার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে বলতে ‘বাবু’ বলে চিৎকার করে ওঠেনি রূপা। প্রিন্সিপাল তাকে চিনে ফেলায় অতর্কিতে হামলা চালায় ছাত্র। রূপাকে ২৭ বার কুপিয়ে পালানোর আগে ঘর থেকে আড়াই লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয় সে। বাড়ি থেকে বেরিয়ে ড্রেনের মধ্য়ে রক্ত মাখা জামাকাপড় ফেলে দেয়। পুলিশ সুপার জানান, বুধবার দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তারের পরে তাদের জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে হাজির করানো হয়েছিল। বোর্ড তাদের জুভেনাইল হোমে রাখতে বলেছে।