কৌশিকী অমাবস্যার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে । দেবী কৌশিকী মহামায়ারই অন্যতম রূপ । পুরাণ মতে, পার্বতীর দেহকোষ থেকে আবির্ভূতা হয়েছিলেন বলে তাঁর নাম কৌশিকী ৷ তিনি ভাদ্র অমাবস্যায় শুম্ভ ও নিশুম্ভ অসুরকে বধ করেছিলেন। জানেন কী, এই ঘোর অমানিশায় কয়েকটি কাজ করলেই দেবী কৌশিকীর আশীর্বাদ আপনার উপর বর্ষিত হবে সারাবছর ৷ কৌশিকী অমাবস্যা, তন্ত্র ও শাস্ত্র মতে ভাদ্র মাসের এই তিথিটি একটি বিশেষ তিথি । এই দিনে সাধনা করলে সাধক কুলকুণ্ডলিনী চক্রকে জয় করে ৷ এই তিথিতে বীরভূমের তারাপীঠ মন্দিরে লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম ঘটে। মা তারাকে শোল মাছ ও বলির পাঁঠার বিশেষ ভোগ নিবেদন করা হয়। কথিত আছে, সাধক বামাখ্যাপা এই কৌশিকী অমাবস্যায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রে এদিনের এক বিশেষ মাহাত্ম্য আছে ৷
কথিত আছে, বামাখ্যাপা কৌশিকী অমাবস্যায় সিদ্ধিলাভ করেছিলেন । এটি অন্য সব অমাবস্যার থেকে একটু আলাদা । কারণ, তন্ত্র ও শাস্ত্র মতে ভাদ্র মাসের এই তিথিটি একটু বিশেষভাবে পালন করা হয় । তন্ত্রশাস্ত্র মতে অনেক কঠিন ও গুপ্ত সাধনা আজকের দিনে করলে আশাতীত ফল মেলে । বৌদ্ধ ও হিন্দু তন্ত্রশাস্ত্রে এই দিনের এক বিশেষ মাহাত্ম্য আছে । তন্ত্র মতে এই অমাবস্যার রাতকে তারা রাত্রিও বলা হয় ।
কৌশিকী অমাবস্যার তিথি
এবার কৌশিকী অমাবস্যাপালিত হবে ১০ সেপ্টেম্বর, বৃহস্পতিবার। অমাবস্যা তিথি শুরু হবে ওই দিন সকাল ১০টা ১১ মিনিটে এবং শেষ হবে পরের দিন অর্থাৎ ১১ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে। তাই উদয়া তিথি হিসাবে ধরলে, ১০ সেপ্টেম্বরই কৌশিকী অমাবস্যার প্রধান দিন হিসেবে বিবেচিত হবে। ফলত, কৌশিকী অমাবস্যা হবে বৃহস্পতিবার। তাই মূল পুজো ও ধর্মীয় আচার পালনের প্রধান দিন হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বরকেই ধরা হচ্ছে।
জ্যোতিষ মতে, এই বিশেষ তিথিতে সামান্য কয়েকটি কাজ করলেই দেবী কৌশিকীর আশীর্বাদ আপনার উপর সারাবছর থাকবে ৷
এই দিনে গঙ্গাস্নান করুন ৷ স্নান করে সূর্য দেবতাকে প্রণাম করুন ৷
উপোস রাখতে পারলে খুবই ভালো হয় ৷ সেটা না-পারলে এইদিন ভুলেও আমিষ খাবেন না ৷
তারা মায়ের পায়ে সিঁদুর ও লাল রক্তজবা নিবেদন করুন ৷
এই অমাবস্যা তিথিতে সন্ধের পর বাড়ির সদর দরজার সামনে দু’টি তিলের তেলের প্রদীপ জ্বালান ৷
এই তিথি চলাকালীন ঘরে এঁটো বাসন রেখে দেবেন না । ঘর পরিষ্কার রাখুন ৷
দরিদ্র মানুষকে সামর্থ্য মতো কিছু দান করুন ৷
জ্যোতিষ মতে, কৌশিকী অমাবস্যা চলাকালীন এই কাজগুলি করলেই প্রসন্ন হবেন দেবী কৌশিকী ৷
মা তারা বীজ মন্ত্র জপের নিয়ম:
মন্ত্রটি জপ করতে হয় স্নান সেরে শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে তারা মায়ে ছবি বা মূর্তির সামনে সরষে তেলের প্রদীপ এবং ধূপ জ্বালিয়ে রুদ্রাক্ষের মালায় মন্ত্রটি জপ করতে হবে। মন্ত্র জপের আগে অবশ্যই ভগবান শিবের উদ্দেশ্যে প্রনাম করবেন। যেহেতু এটি একটি বীজ মন্ত্র তাই মন্ত্রটি ১০৮ বার জপ করতে হবে। মন্ত্র পাঠ বা জপ সংখ্যা ভীষণ ভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
তারা বীজ মন্ত্র: ॐ হ্রীঁ স্ত্রীঁ হুং ফট্।। – এই মন্ত্রটি মা তারার অত্যন্ত শক্তিশালী বীজ মন্ত্র। তন্ত্র মতে এই তিথিতে ১০৮ বার বা যথাসম্ভব বেশিবার জপ করা হয়।
তারা গায়ত্রী মন্ত্র: ॐ তারায়ৈ চ বিদ্মহে মহোগ্রায়ৈ চ ধীমহি, তন্নো দেবী প্রচোদয়াৎ।।

