banganews.net

18তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে তিনদিনের সফরে নয়াদিল্লিতে পা-রাখলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শুক্রবার ভোরে দিল্লিতে পৌঁছলে বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান ভারতের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। 2022 সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর রাশিয়ার বাইরে এটাই পুতিনের প্রথম সশরীরে ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ। এদিন বিকেলে পুতিন ও মোদির মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার কথা রয়েছে। এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভারতে পা-রাখতেই বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণবীর জয়সওয়াল তাঁকে স্বাগত জানিয়েছেন ৷ এক্স পোস্টে তিনি লিখেছেন, “18তম ব্রিকস সম্মেলনে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে উষ্ণ স্বাগত। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান প্রতিমন্ত্রী কেভি সিং। বিশেষ ও অগ্রাধিকারমূলক কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর উপর ভিত্তি করে ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে বহুমুখী ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্ক বিদ্যমান ৷” পুতিনের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল রয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার জানিয়েছেন, দুই দেশই ব্রহ্মস (BrahMos) ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। এদিন মোদি-পুতিন বৈঠকে একাধিক কৌশলগত বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা। এর মধ্যে রয়েছে ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়ন, রাশিয়ার কাছ থেকে বাকি S-400 প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ এবং Su-57-এর মতো অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সরবরাহের প্রস্তাব। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই ভারত ও রাশিয়া ব্রহ্মসের আপগ্রেড নিয়ে আলোচনা করছে। শনিবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে শুরু হচ্ছে অষ্টাদশ ব্রিক্‌স সম্মেলন। চলবে রবিবার পর্যন্ত। 2 দিনের ব্রিকস সম্মেলনে পুতিন অংশ নেবেন। 12 সেপ্টেম্বর ব্রিকসের মূল অধিবেশন শুরু হবে, যেখানে অংশীদার দেশগুলির সার্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সম্মেলনের ফাঁকে কয়েকজন বিশ্বনেতার সঙ্গে আলাদা বৈঠকে বসবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট। তিনি ব্রিকস বিজনেস ফোরামের পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বক্তব্য রাখবেন এবং পরে প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে ইনোপ্রম প্রদর্শনী পরিদর্শন করবেন। সম্মেলনের ফাঁকে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ এল-সিসির সঙ্গেও বৈঠক করবেন পুতিন। সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী শীর্ষ নেতাদের মধ্যে রয়েছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোও সুবিয়ানতো, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম, আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ আলি এবং ভিয়েতনামের প্রধানমন্ত্রী লে মিন হুং। ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লি কড়া নিরাপত্তায় ৷ 15 হাজার পুলিশ, 200 কোম্পানি আধা সামরিক জওয়ান, রাজধানীজুড়ে 500-র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা-সহ যান চলাচলে রয়েছে বিধিনিষেধ ৷