মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার অভিযোগের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ে নেমেছে ‘ইন্ডিয়া’ শিবির ৷ ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় নিয়ে অভিযোগের বিরুদ্ধে বুধবার বৈঠক করল কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি ৷ কংগ্রেস জানিয়েছে, মোদি সরকার সংবিধানের উপর বারবার আঘাত হানছে ৷ বিরোধীরা একজোট হয়ে ‘ভোট চুরির গেমপ্ল্যান’-সহ এই আঘাত থেকে সংবিধানকে রক্ষা করবে ৷ এদিন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংবাদিকদের বলেন, “ভোট চুরির কথা রাহুল গান্ধি ও তেজস্বী যাদব বিহারে বলেছিলেন ৷ ভোট চুরি করে বিজেপি ২০২৪ সালে জয়ী হয়েছে ৷ মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, বাংলায় জিতেছে ৷ বাংলায় ভোট লুট করেছে ৷ আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে গিয়েছিলাম ৷ সুপ্রিম কোর্টেও গিয়েছি ৷ সব দরজায় কড়া নেড়েছি ৷ এখন তো প্রকাশ্যে এসেছে, ভ্যানিশ কুমার চোর, ডাকাত ৷ ভোট চুরি করেছে ৷ ইভিএম মেশিন জ্বালিয়ে দিয়েছে, হাইজ্যাক করেছে ৷ গণনায় কারচুপি করেছে ৷ কী না করেছে !” পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, “তাঁর এখনই পদত্যাগ করা উচিত ৷ আমাদের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে হবে ৷ এবং মানুষের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকারকেও বাঁচাতে হবে ৷ এটা আমাদের সাংবিধানিক অধিকার ৷ মানুষের কাছে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ ৷ যদি মানুষের ভোট লুট করা হয়, তাদের ভোট দিতে না দেওয়া হয়, তাহলে দেশটা কোথায় যাবে ? আমাদের জোরালো দাবি, ভ্যানিশ কুমারকে যদি সরানো না-হয়, তাহলে এই আন্দোলন অনেক দূর পর্যন্ত গড়াবে ৷ মাটি থেকে আকাশ ছোঁবে ৷ চাঁদ, সূর্য পর্যন্ত পৌঁছবে ৷ এর বিরুদ্ধে আমাদের একসঙ্গে লড়তে হবে ৷” এই বৈঠকে যোগ দিতে গতকাল বিকেলে দিল্লি পৌঁছেছেন মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ অন্য নেতা-নেত্রীরা ৷ কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, দলের সংসদীয় কমিটির চেয়ারপার্সন সোনিয়া গান্ধি, লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি, এআইসিসি সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এবং কেসি বেণুগোপাল রয়েছেন ৷ এছাড়া বিরোধী শিবিরের শরদ পাওয়ারের এসপি, সিপিআই, সিপিআই (এম) এবং উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা যোগ দিয়েছে এই মেগা বৈঠকে ৷ যদিও কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি ও এমকে স্ট্যালিনের ডিএমকে এই বৈঠকে অংশ নেবে না বলে আগেই জানিয়ে দিয়েছিল ৷ জয়রাম রমেশ সোশাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “ইন্ডিয়ার জনবন্ধন বৈঠক শুরু হয়েছে ৷ এই বৈঠকে আছে কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস, এনসিপি (এসপি), শিবসেনা (ইউবিটি), রাষ্ট্রীয় জনতা দল, সিপিআই (এম), সিপিআই, জম্মু-কাশ্মীর ন্যাশনাল কনফারেন্স, জম্মু-কাশ্মীর পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টি, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা, সিপিআই-এমএল, আইএইএমএল, কেরল কংগ্রেস (এম), এমডিএমকে, ভিসিকে, রেভোলিউশনারি সোশালিস্ট পার্টি, কেরল কংগ্রেস (জ্যাকব) এবং অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক ৷” তিনি আরও লেখেন, “এই দলগুলি এবং অন্যান্য বিরোধী দলগুলি ভারতের সংবিধানের উপর বারবার মোদি সরকারের অসম্মান, বিশেষত সম্প্রতি ক্ষমতায় টিকে থাকতে ভারতের নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে ভোট চুরির যে গেমপ্ল্যান করা হয়েছে, এই সবকিছু থেকে রক্ষা করতে ঐক্য়বদ্ধ হয়েছে ৷”