মুম্বইয়ের মেরিন ড্রাইভে প্ল্যাকার্ড হাতে দাঁড়িয়ে থাকার পরে ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে থানায় নিয়ে যাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। বৃহস্পতিবারের ওই ঘটনার পরে শুক্রবার, গান্ধী জয়ন্তীর দিন মুম্বইয়ে CJP-র প্রস্তাবিত বিক্ষোভ কর্মসূচির আগে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। পুলিশ তাঁকে আটক বা গ্রেপ্তার করার কথা অস্বীকার করলেও দীপকেকের বক্তব্য, এক মহিলা পুলিশ আধিকারিক তাঁকে থানায় নিয়ে গিয়েছিলেন এবং কিছুক্ষণ পরে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা নাগাদ কয়েকজন সমর্থককে সঙ্গে নিয়ে মেরিন ড্রাইভে ছিলেন দীপকে। তাঁর হাতে ছিল কয়েকটি প্ল্যাকার্ড। সেই সময়ে টহলদারি পুলিশের একটি দল, যার মধ্যে এক মহিলা ইন্সপেক্টরও ছিলেন, তাঁর কাছে যায়। পরে তাঁকে পুলিশের গাড়িতে করে মেরিন ড্রাইভ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশের এক আধিকারিকের দাবি, যাওয়ার পথে তাঁর পরিচয় এবং বাড়ি কোথায়, সেই সংক্রান্ত কিছু প্রশ্ন করা হয়েছিল। তবে মুম্বই পুলিশ স্পষ্ট জানিয়েছে, দীপকেকে ‘ডিটেন’ বা আটক করা হয়নি। পুলিশের বক্তব্য, মেরিন ড্রাইভে তিনি পুলিশকর্মীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন এবং তাঁদের নানা প্রশ্ন করছিলেন। সেই প্রেক্ষিতেই তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে দাবি পুলিশের। অন্যদিকে, CJP প্রতিষ্ঠাতার বয়ান ভিন্ন। তাঁর দাবি, এক মহিলা পুলিশ আধিকারিক তাঁকে ‘চা খাওয়ার’ জন্য সঙ্গে যেতে বলেন। এর পরে তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে কিছুক্ষণ পরে তাঁরা নিজেই তাঁকে চলে যেতে বলেন বলে দাবি। দীপকের কথায়, ওই পুলিশ আধিকারিক তাঁকে বলেছিলেন, ‘আপনার চা খাওয়া আমাদের কাছে পাওনা রইল।’ যদিও থানায় তাঁকে কোনও চা দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। দীপকের অভিযোগ, তাঁকে আটকে রেখে সময় নষ্ট করাই এই গোটা প্রক্রিয়ার উদ্দেশ্য ছিল। পরে তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন যে, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই হয়তো তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। থানা থেকে বেরিয়ে CJP নেতা পরে চেম্বুরের আম্বেডকর হস্টেলে পড়ুয়াদের সঙ্গে দেখা করেন এবং সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। ঘটনাটি নিয়ে CJP-র তরফেও পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ দিকে শুক্রবারই দিল্লির পাশাপাশি মুম্বইয়ের শিবাজি পার্কে CJP-র বিক্ষোভ কর্মসূচি হওয়ার কথা। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ-সহ একাধিক দাবিতে এই আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি। বিশেষ করে ভোটার তালিকার Special Intensive Revision বা SIR প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছে CJP। সংগঠনের দাবি, ভোটার তালিকা সংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তবে শিবাজি পার্কে এই কর্মসূচির অনুমতি দেয়নি মুম্বই পুলিশ। পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, ওই মাঠ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশ ও সরকারি বিধিনিষেধ রয়েছে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পুরসভা অনুমতিও নেওয়া হয়নি। শিবাজি পার্ক সংলগ্ন এলাকা সাইলেন্ট জ়োন হওয়ায় শব্দদূষণ এবং বড় জমায়েতের কারণে যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে পুলিশ। কাছাকাছি একাধিক হাসপাতাল থাকায় জরুরি পরিষেবার গাড়ি চলাচল ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। অনুমতি না মেলায় CJP-র তরফে ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে দাদর স্টেশনেও অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে।

