banganews.net

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে যন্তর মন্তরে আপ ও যুব কংগ্রেসের বিক্ষোভের জেরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি ৷ আগেই অবশ্য এই বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল আম আদমি পার্টির তরফে ৷ যদিও দিল্লি পুলিশ এই সমাবেশের জন্য কোনও অনুমতি দেয়নি। এরপরই দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে শুক্রবার। ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া (SIR) এবং ভোটারদের নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (AISA), রাজ্যসভার সাংসদ মনোজ ঝা এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এদিন বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিলেন। আপ-এর তরফেও আলাদা কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল ৷ সকাল 11টা থেকে এই সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল ৷ তার আগেই অবশ্য গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে পুলিশ ৷ আটক করা হয় আপ-এর মুখপাত্র সৌরভ ভরদ্বাজকে ৷ পুলিশ আপ নেতাদের কার্যত টেনে হিঁচড়ে যন্তর মন্তর এলাকা থেকে সরিয়ে দেয় ৷ আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ বিক্ষোভকারীদের পুলিশের পদক্ষেপে বা বলপ্রয়োগে ভীত না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ৷ তিনি সমর্থকদের আশ্বস্ত করেন, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাঁর বাসভবনের বাইরে বিপুল পুলিশ মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও সম্ভবত এই বিক্ষোভে যোগ দেবেন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এই বিক্ষোভ চলাকালীন কর্তৃপক্ষ ‘আপ’-এর একাধিক নেতা ও বিক্ষোভকারীকে আটক করছে পুলিশ ৷ উল্লেখ্য, ভোটার তালিকা ও নির্বাচন পরিচালনায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি করছে বিরোধীরা। এছাড়া, নির্বাচন কমিশনের SIR কার্যক্রম পরিচালনা এবং নাগরিকদের ভোটাধিকারের উপর এর প্রভাব নিয়েও তাঁরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। AISA-র সভানেত্রী নেহা বোরা, প্রশান্ত ভূষণ এবং মনোজ ঝা এই সমাবেশের ডাক দিয়েছিলেন ৷ নেহা বোরা জানান, তাঁরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানাকে এই কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত করেছিলেন ৷ কত লোক হবে, সমাবেশের সময় এবং আয়োজকদের বিস্তারিত তথ্যও দেওয়া হয়েছিল পুলিশকে ৷ এতে আম আদমি পার্টির নেতা-কর্মী, ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের সদস্য, বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরও অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। দিল্লির প্রাক্তন উপ-মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া আম জনতাকেও এই সমাবেশে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ৷ পাশাপাশি, AAP বিধায়ক অতিশীও মানুষকে যন্তর মন্তরে পৌঁছনোর আবেদন জানিয়েছেন। AAP সাংসদ সঞ্জয় সিং অভিযোগ করেন, SIR-এর নামে ভোটার তালিকা থেকে 1 কোটি 37 লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে ৷ তিনি মানুষকে যন্তর মন্তরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

দিল্লি পুলিশ নয়াদিল্লির নির্দিষ্ট এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার 163 ধারার প্রয়োগ করে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এই নির্দেশের ফলে অনুমতি ছাড়া পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির জনসভা বা সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ প্রদর্শন, পিকেটিং এবং ধর্না নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া স্লোগান দেওয়া, ভাষণ দেওয়া এবং আগ্নেয়াস্ত্র, ব্যানার, প্ল্যাকার্ড, লাঠি, তলোয়ার, ইট-পাথর বা অনুরূপ বস্তু বহন করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নয়াদিল্লির ডিসিপি শচীন শর্মা বলেন, “সবরকম ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ৷” জনগণকে আইন মেনে চলার ও পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করার আবেদন করেছেন তিনি ৷