যন্তরমন্তরে ‘ককরোচদের’ কর্মসূচি করার অনুমতি দিল না পুলিশ। ১০ দিন আগে অনুমতি চাইতে হয়, কিন্তু সেখানে ১০ তারিখের কর্মসূচির আবেদনপত্র দেওয়া হয়েছে ৭ তারিখ। এছাড়া ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে পূর্বে নিয়ম ও আইন ভাঙার অভিযোগও করেন পুলিশ কমিশনার নূপুর প্রসাদ। এরপরেই তিনি সাফ জানান, কোনো অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। পাশাপাশি নয়াদিল্লি জুড়ে জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। নিয়ম ভাঙলে কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলেও জানানো হয় দিল্লি পুলিশের তরফে। যদিও আবেদন জানানোর দিনই, অর্থাৎ ৭ অক্টোবর সিজেপি নেতা সৌরভ দাস বলেন, ‘দিল্লি পুলিশ কে হয় অনুমতি দেওয়ার? ব্রিটিশরাজের সময়ে চলা এই ব্যবস্থা আজও আমাদের মনে গেঁথে দেওয়া হয়েছে। আমাদের লজ্জা হওয়া দরকার। আমরা এসেছিলাম শুধু ইনফর্ম করতে, সেটাই করেছি।’ ১০ তারিখের কর্মসূচির আগে ৯ তারিখ, অর্থাৎ আজ থেকে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে দিল্লি জুড়ে। জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। এছাড়া আজ, ৯ অক্টোবর রাত ৯টা থেকে ১০ অক্টোবর পর্যন্ত দিল্লির ৫৭টি মেট্রো স্টেশনের এন্ট্রি ও এক্সিট গেট বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিতে ২৫ হাজার কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী (সিএপিএফ) সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশকে দেয়া অতিরিক্ত ১১০টি সিএপিএফ কোম্পানি ছাড়াও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ৮ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে ২২১টি সিএপিএফ কোম্পানি মোতায়েনের অনুমোদন দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) ৮৫টি কোম্পানি, সশস্ত্র সীমা বলের (এসএসবি) ১০টি কোম্পানি, ইন্দো-তিব্বত সীমান্ত পুলিশের (আইটিবিপি) ৭টি কোম্পানি, র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (র্যাফ) ৭টি কোম্পানি এবং কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনীর (সিআইএসএফ) ১টি কোম্পানি। এ ছাড়া, বিক্ষোভ চলাকালীন দিল্লি পুলিশের আরও ২০ হাজার সদস্য মোতায়েন থাকবে।
যন্তরমন্তরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবি-সহ আরও একাধিক দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির বিক্ষোভ ঘিরে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণেই এই সিদ্ধান্ত বলে জানানো হয়েছে। যদিও ‘ককরোচ’দের তরফে পাল্টা বলা হচ্ছে, এসব করে তাঁদের আটকানো যাবে না। তবে এরই মাঝে সিজেপির নেতারা অভিযোগ করছেন, তাঁদের কর্মীদের আসতে দেওয়া হচ্ছে না। কোথাও কোথাও আবার হাউস অ্যারেস্ট করে রাখা হয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। গতকাল, ৮ অক্টোবর রাতে রাজস্থানে সিজেপি মুখপাত্র দীপক বালিয়ানকে হাউস অ্যারেস্ট করে রাখা হয়েছে। অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘এসব করে আর কোনো লাভ নেই। এই দেশ, এই যুবসমাজ তোমাকে আর ভয় পায় না।’ সৌরভ দাস বলেন, ‘আমরা জরুরি অবস্থার মধ্যে আছি। ভারত সরকার তার নিজের যুবসমাজের সঙ্গেই যুদ্ধে লিপ্ত। কিন্তু মনে রাখবেন, তরুণ প্রজন্মই জয়ী হবে। আমরা জিতবই।’
দিল্লির কয়েকটি অংশে ইন্টারনেট পরিষেবা অনিয়মিত হয়ে গিয়েছে। এই ঘটনা নিয়ে তোপ দেখেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আব্দুল্লা। ইন্ডিয়া ব্লকের কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসা ওমর এক্স হ্যান্ডেলে করা একটি পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার যে কায়দায় কাশ্মীরে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে রাখে ঠিক সেভাবেই দিল্লিতেও পরিষেবা বন্ধ রাখা হচ্ছে। দিল্লিকে কাশ্মীরে পরিণত করে দেওয়া হয়েছে । সূত্রের খবর, শুক্রবার রাত ন’টা থেকে শনিবার রাত নটা পর্যন্ত যন্তর মন্তর এবং তার পাশে 4 কিলোমিটার এলাকায় ইন্টারনেট পরিষেবা অনিয়মিত রাখার ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ইতিমধ্যেই সম্মতি জানিয়েছে।

