এখন আর শুধু জ্ঞানেশ কুমার নন, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নিশানায় এখন সরাসরি প্রধানমন্ত্রী! নরেন্দ্র মোদীকে ‘স্বৈরাচারী’ আখ্যা দিয়ে সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কারা দাবি করেছেন, শনিবার দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি আটকাতে গত ৭২ ঘণ্টায় যে পুলিশি পদক্ষেপ করা হয়েছে, তা জরুরি অবস্থার সময়কেও ছাপিয়ে গিয়েছে। সিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, সরকারই দেশকে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। শনিবার বিক্ষোভ কর্মসূচিকে যোগ দিতে দিল্লি পৌঁছনোর পরেই আটক করা হয়েছিল সিজেপির তিন শীর্ষ নেতাকে। রবিবার সকালে তাঁদের সতর্কতামূলক গ্রেপ্তারও করা হয়। যদিও পরে নিম্ন আদালত থেকে ছাড়া পান তাঁরা। এর পরেই রবিবার দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করেন সৌরভ এবং আশুতোষ। সেখানে অবশ্য অভিজিৎ দীপকে ছিলেন না। তিনি পারিবারিক প্রয়োজনে মুম্বইয়ের বাড়ি গিয়েছেন। যাওয়ার আগে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বার্তাও দিয়েছেন দীপকে। দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠকে সৌরভের অভিযোগ, দিল্লি পুলিশ জোর করে বিমানে প্রবেশ করে তাঁদের কার্যত ‘অপহরণ’ করেছে। তাঁদের আটক করার কোনও সরকারি নথিও দেওয়া হয়নি। পরে তাঁদের আলাদা আলাদা জায়গায় নিয়েও যাওয়া হয়। আইনজীবীদের সঙ্গেও তাঁদের যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। সৌরভের আরও অভিযোগ, আইনি কাগজপত্র ছাড়াই তাঁদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। সিজেপি নেতৃত্বের সন্দেহ, পুলিশ তাঁদের ফোন ‘হ্যাক’ বা ‘ক্লোন’ করে থাকতে পারে। এমন কিছু তথ্যও ঢুকিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে, যা দেখিয়ে পরে তাঁদের ফাঁসানো হবে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচাতেই সরকার এ কাজ করছে বলেও দাবি করেছেন সিজেপি নেতৃত্ব। জ্ঞানেশকে ‘আসল দেশদ্রোহী’ আখ্যাও দিয়েছেন তাঁরা। সৌরভদের প্রশ্ন, ‘নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ কেন জ্ঞানেশ কুমারকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন?’ আগামী এক বছর শান্তিভঙ্গ না করার শর্তে সিজেপির তিন শীর্ষ নেতাকে মুক্তি দিয়েছে আদালত। সিজেপির অভিযোগ, আসলে শান্তিভঙ্গ করছেন মোদী, শাহ এবং জ্ঞানেশ। সৌরভ বলেন, ‘ইতিহাস বলছে, আমাদের দেশে যে সরকার শিখদের সঙ্গে অত্যাচার করেছে, তারা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। এই সরকারও স্থায়ী হবে না৷ দিল্লি পুলিশ যে ভাবে জুতো পরে, খালি মাথায় বাংলা সাহিব গুরুদ্বারে ঢুকে সেখানে আশ্রয় নেওয়া লোকেদের মারতে মারতে টেনে বার করেছে, তার ফল ভুগতে হবে সরকারকে।’ সৌরভ আরও বলেন, ‘সারা দেশে জরুরি অবস্থার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের সতীর্থদের সঙ্গে কাস্টোডিয়াল ভায়োলেন্স করা হয়েছে। মানবাধিকার কমিশন, সুপ্রিম কোর্ট কোথায় গেল? রাষ্ট্র তার নাগরিকদের সঙ্গেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গেও যুদ্ধ করছে কেন্দ্রীয় সরকার। দেশবাসীকে আবেদন করছি, যে যেখানে আছেন, সেখানে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে শুরু করুন।’ দীপকের ঠাকুমার মৃত্যুর খবর দেওয়ার সময়েও দিল্লি পুলিশ চূড়ান্ত অমানবিক আচরণ করেছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আশুতোষ। তিনি বলেন, ‘যখন অভিজিৎকে ওঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর দেওয়া হচ্ছিল, তখনও পুলিশ কর্মীরা ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে ওই ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তটিকে তামাশায় পরিণত করার চেষ্টা করছে। দেশের রাজধানীর পুলিশের এই আচরণ অত্যন্ত লজ্জাজনক।’ শনিবারের পুলিশি অভিযানের জন্য মোদী-শাহের লজ্জিত হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করে আশুতোষ বলেন, ‘আমাদের লড়াই সবে শুরু হল। আমরা রাস্তা ছাড়ছি না।’

