banganews.net

বিরোধী শিবিরের সঙ্গে দেখা করতে রাজি হলেন না দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সোমবার বিকেল চারটে থেকে পাঁচটার মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি এবং রাজ্যসভার বিরোধী দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি হলেন না প্রধান বিচারপতি। রবিবার রাতের দিকে এই খবর প্রকাশ্যে আসে । বিরোধী শিবির চেয়েছিল প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দিয়ে নিজেদের কয়েকটি দাবি তুলে ধরতে। তার মধ্যে ছিল অবিলম্বে ভোট চুরি শেষ করার দাবি । পদ থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসরণের দাবি । একইসঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বন্ধ করার দাবি এবং অতীতে ফিরে গিয়ে ব্যালট বাক্সের মধ্যে ভোট করানোর দাবিও জানাতেন বিরোধীরা।কিন্তু প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দিলেন প্রশাসনিক বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট এমন কোনও ব্যাপারে রায় দেওয়া সম্ভব নয়। আর তাছাড়া রাহুলরা যে সমস্ত বিষয়ে সামনে রেখে দেখা করতে চাইছেন তা নিয়ে এমনিতেই মামলা দায়ের হয়েছে। প্রধান বিচারপতি জানান রাহুল গান্ধি নিজেও একটি মামলা দায়ের করতে পারেন । মঙ্গলবার আদালত সেই মামলা শুনতে পারে । দু’দিন আগেই রাহুল ঘোষণা করেছিলেন, সোমবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করবেন । এর আগে শুক্রবার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিল বিরোধী শিবির । বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধি থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়রা জানান, ভোট চুরির প্রমাণ চেয়েছন রাষ্ট্রপতি । যদিও পরে একটি সূত্র থেকে দাবি করা হয় বৈঠকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে রাহুল যে দাবি করেছেন তা সত্য নয় । এদিকে, রবিরার সন্ধ্যার দিকে জানা যায়, সোমবার সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করবে ‘ইন্ডিয়া’ ৷ এদিন লোকসভার বিরোধী দলনেত রাহুল গান্ধি সোশাল মিডিয়ায় ভিডিয়ো পোস্ট করে বলেন, “গতকাল দিল্লিতে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ করছিলেন তরুণরা ৷ তাঁরা হৃদয়ে ভালোবাসা নিয়ে এসেছিলেন । ঘৃণা বা ক্ষোভ নিয়ে নয় ৷ পুলিশ আর বিজেপির গুন্ডারা তাঁদের মারধর করেছে ৷ এমন ভারত আমরা চাই না ৷” তিনি আরও বলেছেন, “তরুণ থেকে শুরু করে বিরোধী রাজনৈতিক দল, নাগরিক সংগঠন, সর্বোপরি যাঁরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন এবং সংবিধানের পাশে রয়েছেন, তাঁরা সবাই আমাদের সঙ্গে মিছিলে হাঁটবেন ৷ আমরা রাষ্ট্রের তরফে দেশের প্রধান বিচারপতির কাছে একটি স্মারকলিপি পেশ করব ৷ ভোট চুরি শেষের দাবি তুলব । এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করা এবং জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিও জানাব ৷ নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহ, অজিত দোভাল এবং মোহন ভাগবত ভারতের স্বরকে কখনওই রুদ্ধ করতে পারবেন না ৷ এই কাপুরুষেরা আমাদের ভয় দেখাতে পারবেন না ৷ ওঁদের সরে যেতে হবে ৷ আমরা ভালোবাস, ভ্রাতৃত্ব আর দেশপ্রেম নিয়ে একসঙ্গে হাঁটব ৷” সবশেষে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুলের অভয়বাণী, “ভয় পেয়ো না ৷ কাল সারা ভারত সুপ্রিম কোর্টের উদ্দেশে মিছিল করবে ৷” শুধু তাই নয় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে স্মারকলিপি দেওয়ার আগে দুপুর দেড়টা নাগাদ কনট প্লেসে জমায়েত করার কথা বিরোধী সাংসদদের। কিন্তু প্রধান বিচারপতি দেখা করতে রাজি না হওয়ায় সেই কর্মসূচি বহাল থাকছে না বাতিল হচ্ছে তা এখনও স্পষ্ট নয় ।