অযোধ্যায় একটি আবাস প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ‘শ্রী সরযূ নগর বিকাশ সমিতি’র দায়ের করা আবেদনে সোমবার রায়দান স্থগিত রাখল সুপ্রিম কোর্ট । এর আগে 6 অগস্ট, এলাহাবাদ হাইকোর্টের লখনউ বেঞ্চ ‘উত্তরপ্রদেশ আবাস এবং বিকাশ পরিষদ অধিনিয়ম, 1965’-এর আওতায় জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও অন্যান্য সুবিধা দিতে ‘উত্তর প্রদেশ আবাসন ও বিকাশ পরিষদ’-কে নির্দেশ দিয়েছিল ।হাইকোর্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিল যে, তারা যেন উল্লেখিত আইনি নীতিগুলির (যাতে ‘ভূমি অধিগ্রহণ, পুনর্বাসন ও পুনর্সংস্থানে স্বচ্ছতা ও সঠিক ক্ষতিপূরণ অধিকার আইন, 2013’ অন্তর্ভুক্ত) সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই সমস্যার সমাধান করে ।আবেদনকারী পক্ষের সিনিয়র অ্যাডভোকেট গোপাল শঙ্করনারায়ণন এবং রাজ্য সরকারের প্রতিনিধি অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্যা ভাটির যুক্তি শোনার পর ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ ‘শ্রী সরযূ নগর বিকাশ সমিতি’র আপিলে রায় স্থগিত রাখে ।শঙ্করনারায়ণন যুক্তি দেন যে, কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত জমি মালিকদের প্রাপ্য সুবিধাগুলিকে কেবল আর্থিক ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসনেই সীমাবদ্ধ রাখতে পারে না । 2013 সালের আইনের আওতায় থাকা অন্যান্য সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা যেমন সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন (SIA), অতীতে অধিগ্রহণ করা জমির ব্যবহার এবং বহুফসলি কৃষি জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত নিয়মাবলি উপেক্ষা করা অনুচিত ।বেঞ্চ মন্তব্য করেছে যে, SIA-কে হালকাভাবে এড়িয়ে যাওয়া যায় না, তবে একইসঙ্গে সতর্ক করে দিয়ে এও বলেছে যে এটি যেন রাজ্য সরকারের বোঝা হয়ে না দাঁড়ায় । বেঞ্চ ইতিমধ্যেই শুরু হওয়া উন্নয়ন প্রকল্পগুলিতে জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করায় জোর দিয়েছে । শঙ্করনারায়ণনের মতে, বর্তমান মামলার ক্ষেত্রে নতুন আইন চালু হওয়ার পরেই জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, কিন্তু সেগুলি সম্পূর্ণভাবে প্রয়োগ করা হয়নি । প্রধান বিচারপতি শঙ্করনারায়ণনের এই দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন যে, হাইকোর্ট সমিতির অধিকার সীমিত করেছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা সঠিক নয়, কারণ হাইকোর্টের রায় 2013 সালের আইনের সুবিধা বা তার মূল নীতিগুলি প্রয়োগের কথাই বলেছে । শঙ্করনারায়ণন বেঞ্চকে অনুরোধ জানান, বন্ধ থাকা ‘সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন’ (SIA) প্রক্রিয়াটি পুনরায় শুরু করে সম্পূর্ণ না করা পর্যন্ত যেন এই প্রকল্পটিকে এগোতে না দেওয়া হয় ।

