banganews.net

আগামী ২০২৭ সালের পাঞ্জাব বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ময়দান এখন থেকেই সরগরম হয়ে উঠেছে। এই আবহেই চণ্ডীগড়ের এক জনসভায় দাঁড়িয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধির নেতৃত্ব এবং তাঁর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ । রাহুলের বিখ্যাত ‘মহব্বত কি দুকান’ স্লোগানকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন যে, ওই দোকানে ভালোবাসা নয়, বরং কেবল তিক্ততা ও ঘৃণাই পাওয়া যাবে। বিশেষ করে রাহুলের ‘মক পার্লামেন্ট’ বা নকল সংসদ চালানোর অভিনব কায়দাকে খাটো করে শা মন্তব্য করেন যে, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার খোয়াব পূরণ করতে গিয়েই এই নতুন পন্থা বেছে নিয়েছেন কংগ্রেস নেতা। তিনি আরও যোগ করেন যে, মক পার্লামেন্টে রাহুল নিজের ইচ্ছেমতো প্রধানমন্ত্রী সেজে থাকতে পারেন, কিন্তু দেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার তাঁর এই স্বপ্ন কোনোদিনই বাস্তবায়িত হবে না। দিল্লির নির্বাচনি ফলাফলের প্রসঙ্গ টেনে কংগ্রেসের করুণ দশার কথা তুলে ধরেন শা। তাঁর দাবি, গত তিনটি বিধানসভা নির্বাচনে একটি আসনও জিততে না পারা কংগ্রেস আগামী আরও তিনটি নির্বাচনেও খাতা খুলতে ব্যর্থ হবে। তাই বিরোধী দলের আসনে বসার জন্য তাদের এখন থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে থাকা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, উৎসবের মরশুমে দিল্লির ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে কংগ্রেসকে রাজনৈতিক কর্মসূচি স্থগিত রাখার অনুরোধ জানানোর বিষয়টিতেও তীব্র শ্লেষ প্রকাশ করেছেন তিনি। আসন্ন পাঞ্জাব নির্বাচনে নিজেদের রাজনৈতিক শেকড় শক্ত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিজেপি। শরিক দলের ওপর ভরসা না রেখে এবার এককভাবে নিজেদের সরকার গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন অমিত শা। রাজ্যের প্রধান সমস্যা হিসেবে মাদক ব্যবসাকে কাঠগড়ায় তুলে ২০২৯ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে পাঞ্জাব তথা দেশকে সম্পূর্ণভাবে মাদকমুক্ত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে আম আদমি পার্টি ইতিমধ্যেই তাদের প্রথম দফার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করায় পাঞ্জাবের রাজনৈতিক লড়াইয়ে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিচার করে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, সুশাসন, মাদক সমস্যা এবং জাতীয় রাজনীতিকে হাতিয়ার করে এবার কংগ্রেস ও আপ—উভয় দলের বিরুদ্ধেই অত্যন্ত আগ্রাসী রণকৌশল নিয়ে এগোচ্ছে পদ্মশিবির।